
বীরভূমের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ৬৭তম জন্মদিন এবার যেন পেল সম্পূর্ণ নতুন রূপ। রাজনৈতিক সমীকরণ, দলীয় ব্যস্ততা এবং বহু বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়েও এতদিন ব্যক্তিগত উদযাপনকে আড়ালে রাখতেন তিনি। তবে এই বছর তাঁর বাড়ি এবং জেলা কার্যালয় দু’জায়গাতেই তৈরি হল উৎসবের আবহ, যা স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়ল জেলার রাজনৈতিক মহলে।
সকালে থেকেই অনুব্রত মণ্ডলের বাসভবনের সামনে শুরু হয় সাজসজ্জা। নীল–সাদা বেলুনে মোড়া উঠোন, টেবিলে সাজানো বিভিন্ন রকমের মিষ্টি, কেক, পায়েস সব মিলিয়ে উচ্ছ্বাসের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে। সাদা পাজামা–পাঞ্জাবিতে সাজিয়ে উঠতেই দলীয় কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। শুভেচ্ছা জানানো, ছবি তোলা, আশীর্বাদ নেওয়া সব মিলিয়ে বাড়ির সামনে জমে ওঠে উৎসবের পরিবেশ।
জন্মদিন পালন নিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের পরিবারের বরাবরই ছিল একরকম অনীহা। অতীতে নিজের মেয়ের জন্মদিনও খুব একটা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে পালিত হয়নি। তাই এই বয়সে এসে এত আয়োজন দেখে তিনিও বিস্মিত। যদিও পরিবারের তরফে জানানো হয়েছিল, তাঁর বিশেষ দিনের দুপুরের খাবারেও ছিল বিশেষ আয়োজন ভাত থেকে শুরু করে পাঁচ রকম ভাজা, মাছের মাথা দিয়ে চচ্চড়ি, পটল–চিংড়ি, পোস্তর বড়া সব মিলিয়ে ছিল পূর্ণ আহ্লাদের ছোঁয়া।
জেলমুক্তির পর অনুব্রত মণ্ডল আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই কর্মীদের উচ্ছ্বাস ফের চোখে পড়ছে। সেই আবেগ যেন জন্মদিনের আয়োজনে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। দিনভর চলল দেখা–সাক্ষাৎ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পার্টি অফিসে ছোটখাটো অনুষ্ঠানের ধারা। স্থানীয় মহলেও এই উদযাপন হয়ে উঠল আলোচনার অন্যতম বিষয়, কারণ জেলার রাজনৈতিক মাটিতে অনুব্রত মণ্ডলের উপস্থিতি এখনও যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বার্তাই যেন ফের স্পষ্ট হয়ে উঠল এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
