
দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে এখন গোয়েন্দাদের নজর পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলোর দিকে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাকিস্তানের জইশ-ই-মহম্মদ সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা ডিজিটালি জঙ্গিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। এই প্রক্রিয়ায় ফরিদাবাদের এক চিকিৎসক মডিউল ও জইশের যোগ রয়েছে এমন প্রমাণ হাতিয়ে নিয়েছে।
তদন্তে আরও ধরা পড়েছে যে মুজাম্মিল ও উমর নামে দুইজন জঙ্গি বোমা তৈরির ভিডিও শেয়ার করেছিল। এই ভিডিও জইশের এক হ্যান্ডেলার হানজুল্লা পাঠিয়েছিল। ভিডিওর মাধ্যমে তারা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বোমা তৈরির পদ্ধতি দেখিয়েছিল। গোয়েন্দারা এখন খুঁজছে হানজুল্লার আসল পরিচয়। হানজুল্লা আসলে ছদ্মনাম ব্যবহার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন যে, জম্মু ও কাশ্মীরের নওগাম অঞ্চলে অক্টোবর মাসে হানজুল্লা নামের কমান্ডারের পোস্টার পড়েছিল। এই পোস্টার থেকে জইশের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে প্রথম সংকেত পাওয়া গিয়েছিল। শোপিয়ানে এক ধর্মগুরু মৌলভি ইরফান মুজাম্মিলদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়েছিলেন হানজুল্লার সঙ্গে। তদন্তকারীরা যাচাই করছেন যে, এই হানজুল্লা এবং পোস্টারের হানজুল্লা একই ব্যক্তি কি না।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মুজাম্মিলই চিকিৎসক মডিউলের প্রধান এবং তার সঙ্গে আগে থেকেই সন্ত্রাসবাদী যোগ রয়েছে। ২০২৩-২৪ সালে অস্ত্র সংগ্রহ করে সে স্বাধীন জঙ্গি সেল গঠন করার পরিকল্পনা করেছিল। এছাড়াও, ২০২১-২২ সালে আইসিসের গোষ্ঠী আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের প্রভাবেও মুগ্ধ ছিল।
গোয়েন্দারা এখন এই জঙ্গি নেটওয়ার্ক ও হানজুল্লার পরিচয় নিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যম, পোস্টার ও ভিডিওর মাধ্যমে যে তথ্য মিলেছে তা বিস্ফোরণ ও জঙ্গি পরিকল্পনার সূত্রপাত স্পষ্ট করছে। গোয়েন্দারা আরও নিশ্চিত করতে চাইছে যে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে অন্য স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক সহযোগী রয়েছে কি না।
তদন্তকারীরা সতর্কভাবে প্রমাণ ও তথ্য সংগ্রহ করছে যাতে ভবিষ্যতে এমন হামলার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
