
দিল্লি হাই কোর্ট তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ‘ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন’ মামলার রায়দান আপাতত স্থগিত রাখেছে। মহুয়া লোকপালের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেছিলেন, যাতে সিবিআই তার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না নিতে পারে। আদালতের দ্বি-সদস্য বেঞ্চ শুনানি শেষে রায় স্থগিত রাখলেও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করেছে।
মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে লোকপাল ইতিমধ্যেই সিবিআইকে চার্জশিট জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, তিনি দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে সংসদে কিছু প্রশ্ন করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রীর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা। সিবিআই তদন্তের পর রিপোর্ট লোকপালের কাছে জমা দেয় এবং চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়ার অনুমতি চায়। লোকপালের পূর্ণ বেঞ্চ ১২ নভেম্বর চার্জশিট দেওয়ার অনুমোদন দেয়, যার সময়সীমা চার সপ্তাহ।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, মোট ৬১টি প্রশ্ন সংসদে মহুয়া করেন, যার মধ্যে কিছু সামনাসামনি এবং কিছু অনলাইনে পোস্ট করা হয়েছিল। হীরানন্দানি হলফনামায় জানিয়েছিলেন যে মহুয়া তার লগইন আইডি ব্যবহার করে প্রশ্নগুলো পোস্ট করেছিলেন। এ ঘটনার পর এথিক্স কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী মহুয়াকে লোকসভার সাংসদপদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে তিনি পুনরায় সেই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে সাংসদ হন।
দিল্লি হাই কোর্টের শুনানি শেষে মামলার রায় আপাতত স্থগিত থাকলেও, আদালত মহুয়ার আবেদন অনুযায়ী সিবিআইকে অন্তর্বর্তী কোনো নির্দেশ দেয়নি। তাই আদালতের সিদ্ধান্ত মহুয়ার জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনলেও, তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর অনুমতি এখনও কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে রয়েছে। মামলার পরবর্তী ধাপ আদালতের পরবর্তী রায় নির্ভর করবে তদন্ত ও চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ার ওপর।
মামলার বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক মহলে এবং সাংসদদের আচরণ সংক্রান্ত নৈতিকতার আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
