
কলকাতা রিজেন্ট পার্ক থানার কুদঘাট এলাকায় ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ম্যানহল পরিষ্কার করতে গিয়ে চার শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ও তিনজনের গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্ট ফের কঠোর অবস্থান নিল। আদালত জানায়, ন্যূনতম সুরক্ষা ছাড়াই শ্রমিকদের ম্যানহলে নামানো হয়েছিল যা আইন লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার পরিচয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি চৈতালি চ্যাটার্জি দাসের বেঞ্চ চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করে। প্রথমেই নিহত চার শ্রমিকের পরিবারকে অবিলম্বে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। উপার্জনক্ষম সদস্য হারানো পরিবারগুলির আর্থিক বিপর্যয়ের কথা বিবেচনা করে আদালত জানায় যে তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। সঙ্গে গুরুতর আহত তিন শ্রমিকের ক্ষেত্রেও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।
দ্বিতীয় নির্দেশে হাইকোর্ট জানায় ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া আর দেরি করা যাবে না। বহু সময় পেরিয়ে গেলেও পরিবারগুলি ন্যায়বিচার পায়নি, যা আদালতের মতে অগ্রহণযোগ্য। তাই আগামী তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও অজুহাত বা দেরি গ্রহণযোগ্য নয় বলে আদালত স্পষ্ট বার্তা দেয়।
শহরে এরকম দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে রুখতে তৃতীয় নির্দেশ আসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের। ম্যানহল পরিষ্কার, নিকাশি ব্যবস্থার অবস্থা, শ্রমিকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার ওপর কমিটি নিয়মিত নজর রাখবে। কোথাও আইন না মানার অভিযোগ মিললে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বও তাদেরই।
শেষ নির্দেশে বলা হয়েছে এই সমস্ত পদক্ষেপের অগ্রগতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে জমা দেবে কলকাতা পুরসভা। আদালত স্পষ্ট জানায় যে নিয়ম ভাঙলে প্রশাসনকে জবাবদিহি করতেই হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।
