
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক পদে নতুন নিয়োগ হলেও পূর্ণ সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক না থাকায় রেলমহলের একাংশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ব রেলের নতুন সিপিআরও হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বেদ প্রকাশ, যিনি ইতিমধ্যেই ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (জি) পদে কর্মরত। ফলে একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে হবে তাঁকে।
বেদ প্রকাশ ২০১১ সালে ভারতীয় রেলের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসে যোগ দেন। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত হলেও, দুটি জটিল পদ একসঙ্গে সামলানো কতটা সম্ভব হবে তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে রেল ভবনের অন্দরমহলে। পূর্ব রেল ভারতের গুরুত্বপূর্ণ একটি জোন। ফলে প্রতিটি বিভাগেই দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বয় এবং জনসংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজিএম (জি) পদ নিজেই অত্যন্ত ব্যস্ততার। সংসদীয় কমিটি, ভিআইপি রেফারেন্স, কনসালটেটিং কমিটির নানা কাজ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সমন্বয়, সবই সামলাতে হয় এই পদে। অন্যদিকে সিপিআরওর দায়িত্ব আরও বিস্তৃত। সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত তথ্য আদানপ্রদান, জরুরি পরিস্থিতিতে তথ্য পরিচালনা, এমনকি বিভিন্ন সিনেমা বা ওয়েব সিরিজের শুটিং সংক্রান্ত বিষয়ও দেখভাল করতে হয়। দুই দায়িত্বের চাপ একসঙ্গে পড়লে কোনও দিকেই প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া সম্ভব হবে না বলে অনেকে মনে করছেন।
রেল কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, পূর্ব রেলের মতো ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ জোনে সিপিআরও পদটি পূর্ণকালীন আধিকারিক ছাড়া পরিচালনা করা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার কারণ হতে পারে। জনসংযোগের মতো স্পর্শকাতর বিভাগে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জরুরি, আর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ সেই গতি কমাতে পারে বলেই তাঁদের আশঙ্কা।
তবে অন্য পক্ষের দাবি, বেদ প্রকাশ অভিজ্ঞ ও দক্ষ আধিকারিক। তিনি দায়িত্বগুলিকে যথাযথভাবে সমন্বয় করতে পারবেন বলে প্রশাসনের আস্থা রয়েছে। এখন দেখার, দুই দায়িত্ব কীভাবে সামলান তিনি এবং তার ফলে পূর্ব রেলের যোগাযোগব্যবস্থায় কোনও প্রভাব পড়ে কি না।
