
ভারত ও কানাডার মধ্যে সম্ভাব্য সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা সেপা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরই এই আলোচনার আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করা হয়।
দুই দেশের লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে বাড়িয়ে প্রায় ৭০ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারে নিয়ে যাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এটি দুই অর্থনীতির জন্যই শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। কানাডা ভারতকে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে দেখছে এবং তাদের মতে ভারতীয় বাজার কানাডিয়ান ব্যবসায়ীদের জন্য বিশাল সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।
বৈঠকে কূটনৈতিক স্টাফ বাড়ানো, কনসুলার পরিষেবার উন্নতি, জ্ঞান আদান–প্রদান ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে চলমান সংলাপকেও দুই পক্ষ এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্ক কার্নি আগামী ২০২৬ সালের শুরুতেই ভারত সফরে আসবেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক গতি আরও বাড়াবে বলে ধরা হচ্ছে।
সম্প্রতি দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বছর আগে যে পর্যায়ে সম্পর্ক নেমে গিয়েছিল, বর্তমান উন্নতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি আঁকে। কানাডার শীর্ষ ব্যবসায়ী মহলও এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এনার্জি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতে আরও গভীর সহযোগিতার সম্ভাবনা দেখছে।
২০১০ সালে শুরু হওয়া সেপা আলোচনা বহুবার স্থগিত হয়েছিল রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে। এখন নতুন নেতৃত্ব ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তা আবার পূর্ণমাত্রায় ফিরে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই চুক্তি বাস্তবায়ন দুই দেশের জন্যই অর্থনৈতিকভাবে বড় লাভের পথ খুলে দিতে পারে।
