
দিল্লির ভয়াবহ বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে রবিবার সন্ধ্যায় ইন্ডিয়া গেটের সি-হেক্সাগনে আয়োজিত বিক্ষোভ হঠাৎ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন ধরে দূষণ সমস্যা নিয়ে কার্যকর উদ্যোগের অভাবের অভিযোগ তুলেই নানা সংগঠনের সদস্য, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, সরকারের সাময়িক পদক্ষেপে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
অভিযোগ, পুলিশ বারবার রাস্তা খালি করতে বলার পরও অনেকে স্থান ছাড়েননি। এসময় ধস্তাধস্তি শুরু হলে কিছু বিক্ষোভকারী মরিচ স্প্রে ব্যবহার করেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, বিক্ষোভে মরিচ স্প্রে ব্যবহারের ঘটনা এই শহরে প্রথম। এতে চার পুলিশকর্মী চোখ ও মুখে আঘাত পান এবং তাঁদের আরএমএল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১৫ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে। সরকারি কাজে বাধা, রাস্তা অবরোধ, পুলিশকে আক্রমণ এবং অনুমতি লঙ্ঘনের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তায় বসে পড়ে যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন। অন্যদিকে কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, তাঁদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে, যদিও পুলিশ এই দাবি অস্বীকার করেছে।
বিক্ষোভের আরেকটি বিতর্কিত দিক ছিল মাদভি হিদমার নামে স্লোগান ও পোস্টার প্রদর্শন। পরিবেশ আন্দোলনকে মাওবাদী সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করে কিছু পোস্টার দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, কারা এই স্লোগান তুলেছে তা ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিক্ষোভের সময় রাজধানীর অধিকাংশ স্থানে এয়ার কোয়ালিটি অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় ছিল। সোমবার সকালে শহরজুড়ে সামগ্রিক একিউআই ছিল ৩৯৬, ঘাজিপুর, বাওয়ানা ও আনন্দ বিহারসহ বিভিন্ন এলাকায় মাত্রা ছাড়িয়ে যায় গুরুতর পর্যায়েও। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ছাড়া দিল্লির বায়ু সংকট আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
