
অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কিত দিকের সেনেটর পলিন হ্যানসন সংসদে বোরখা পরিধান করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন। সোমবার কানবেরার পার্লামেন্টে হ্যানসন বোরখা পরেন, যা মূলত মুসলিম মহিলাদের পরিধেয় পোশাকের ওপর জনসাধারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আহ্বানের অংশ। এই কার্যকলাপ মুসলিম সেনেটরদের মাঝে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ তুলে দেয়।
হ্যানসনের এই সিদ্ধান্ত আসে এমন সময় যখন তাকে বোরখা এবং অন্যান্য মুখ ঢাকার পোশাক জনসমক্ষে নিষিদ্ধ করার একটি বিল উপস্থাপন করতে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এটি তার পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বারের মতো পার্লামেন্টে বোরখা ব্যবহারের ঘটনা। হ্যানসন এবং তার দল ‘ওয়ান নেশন’ এর পক্ষ থেকে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা বোরখা নিষিদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে।
মুসলিম সম্প্রদায় এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই কাণ্ডকে বিতর্কিত এবং বিভাজক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই ধরনের কৃতিত্ব সমাজে ধর্মীয় সংহতি ও সমন্বয়কে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। পার্লামেন্টে এমন নাটকীয় অভিনয় সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক মহলে হ্যানসনের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল জনমতের জন্য রাজনৈতিক স্টান্ট নয়, বরং দেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি প্রতিকূল মনোভাবও প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে, এই ঘটনাটি দেশে বোরখা নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে নতুন বিতর্ক ও আলোচনা শুরু করেছে।
রাজনৈতিক মহলে হ্যানসনের এই কাণ্ড দেশের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্ককে তীব্র করেছে। দেশব্যাপী সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্প্রদায় এই ঘটনার প্রভাব এবং সম্ভাব্য ফলাফলের দিকে খেয়াল রাখছে। পার্লামেন্টে হ্যানসনের এই বিতর্কিত পদক্ষেপ অস্ট্রেলিয়ার ধর্ম ও রাজনৈতিক সংহতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
