
দিল্লির মারাত্মক দূষণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ডাকে শুরু হওয়া প্রতিবাদ রবিবার আচমকাই অন্য মোড় নিল। রাজধানীর ইন্ডিয়া গেটে জমায়েত হওয়া কয়েকশো মানুষ প্রথমে দূষণের ঘন ধোঁয়া ও সরকারি ব্যর্থতার বিরুদ্ধে স্লোগান তুললেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই আন্দোলনের ভিতরে ঢুকে পড়া কয়েকটি গোষ্ঠী ভিন্ন পথে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেয়। নিরাপদ বাতাস চাইতে আসা অসংখ্য সাধারণ মানুষ তাই অকস্মাৎ নিজেদেরকে রাজনৈতিক স্লোগানের মাঝে আটকে পড়তে দেখেন।
আন্দোলনের অন্যতম সহ-আয়োজক বলে দাবি করা ‘সায়েন্টিস্টস ফর সোসাইটি’ ঘটনাটি পরদিন স্পষ্ট করে জানায় যে তারা দূষণ ইস্যুর বাইরে কোনও বক্তব্যকে সমর্থন করে না। তাদের দাবি, আন্দোলনের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়া দু’টি সংগঠন আচমকা বিতর্কিত স্লোগান তুলতে শুরু করে। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংস্থাটি আরও জানায়, তারা সেই মুহূর্তে ঘটনাটি থামানোর চেষ্টা করলেও কোনও লাভ হয়নি, ফলে দ্রুত নিজেদেরকে আলাদা করে নেয়।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ জানায়, অনুমতি ছাড়াই রাস্তার মাঝখানে বসে পড়েছিলেন প্রতিবাদকারীরা। বাধা দিতে গেলে কয়েকজন আন্দোলনকারী হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ব্যারিকেড ভেঙে দেয় এবং চিলি স্প্রে ব্যবহার করে তিন থেকে চার পুলিশকর্মীকে আঘাত করে। এই আচরণে পুরো পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সায়েন্টিস্টস ফর সোসাইটির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই অভিযোগ করেন, নির্দোষ নাগরিকদের দূষণ-বিরোধী আন্দোলনকে ভুল পথে চালিত করা হয়েছে। অনেকে বলেন, এ ধরনের আচরণ সরকারের হাতে অজুহাত তুলে দেয়, যাতে আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া সহজ হয়। দূষণে হাঁসফাঁস করা শহর তাই আবারও দেখল কীভাবে একটি জনস্বার্থের আন্দোলন মুহূর্তেই বিশৃঙ্খলায় ভেঙে পড়তে পারে।
