
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাস্তাঘাট, বাজার ও হাটের ধারে প্রকাশ্যে মাংস কাটা এবং তা ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা দ্রুত বেড়ে চলেছে। এতে একদিকে বাড়ছে দৃশ্য দূষণ, অন্যদিকে শিশুদের মানসিক বিকাশের ওপর পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক দোকানেই এখন আর কোনও পর্দা বা আবরণ ব্যবহারের নিয়ম মানা হচ্ছে না। পথচারীদের চোখের সামনে পশুপাখির কাটা দেহ ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে, যা পরিবেশের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।
দেশের সর্বোচ্চ আদালত বহু আগে নির্দেশ জারি করে জানিয়েছিল যে কোনও মাংসের দোকান প্রকাশ্যে কাটা মাংস প্রদর্শন করতে পারবে না। দোকানগুলোকে আচ্ছাদিত রাখা বাধ্যতামূলক, যাতে সাধারণ মানুষ চলাফেরার সময় এমন দৃশ্যের মুখোমুখি না হন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে মাংস কাটার ব্যবস্থা করা এবং বর্জ্য সঠিকভাবে নিস্পত্তি করার কথাও বলা হয়েছিল। প্রথম দিকে এই নির্দেশ কার্যকর করতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিলেও এখন তাতে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট।
বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর, বুনিয়াদপুর, তপন, কুশমন্ডি, কুমারগঞ্জ ও হিলি সহ প্রায় সব শহর ও গ্রামীণ বাজারেই একই চিত্র দেখা যায়। অনেক জায়গায় কাটা পশুপাখির অংশ রাস্তায় ছড়িয়ে থাকে, যা জমে জল দূষণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে শিশুদের মনে এই দৃশ্য অস্বস্তি, ভয় ও হিংস্রতা প্রভাবিত মানসিক ভাবনার উত্থান ঘটাচ্ছে বলে স্থানীয় মনোবিশেষজ্ঞদের মত। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন এমন দৃশ্যের মুখোমুখি হলে শিশুমনে চাপ তৈরি হয়, যা আচরণগত সমস্যা পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
পরিবেশবিদদের ধারণা, এই দৃশ্য দূষণ ধীরে ধীরে এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ নষ্ট করছে। তাঁদের মতে, প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবেশ ও শিশুকল্যাণ নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকেও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। জেলার মানুষের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
