
কলকাতার রাজারহাটে ইকো টুরিজম পার্কের ঠিক বিপরীতে গড়ে উঠছে নতুন এক তীর্থক্ষেত্র দুর্গাঙ্গন। দিঘার জগন্নাথ ধাম তৈরির পর যেভাবে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে, সেই সাফল্যের মডেলকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকার এবার রাজধানীর পাশে নির্মাণ করছে এই বিশেষ অঙ্গন। মুখ্যমন্ত্রীর ২১ জুলাইয়ের ঘোষণার চার মাসের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি এসেছে। ইতিমধ্যেই পুরো জমি প্রস্তুত, আর আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যেই উদ্বোধনের পরিকল্পনা।
নতুন তীর্থকে কেন্দ্র করে রাজারহাট এলাকায় পর্যটন চাহিদা বাড়বে বলে প্রশাসনের ধারণা। সারা বছর খোলা থাকবে দুর্গাঙ্গন, তাই উৎসব-নির্ভর নয়, বরং সার্বক্ষণিক দর্শনার্থীদের জন্যই এটি তৈরি করা হচ্ছে। দিঘায় মন্দির উদ্বোধনের পর সেখানকার অর্থনৈতিক কার্যকলাপে যে উর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছে, বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, রাজারহাটেও তেমন ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বনগাঁর সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করতে বিভিন্ন মন্দির-মসজিদ-ধর্মস্থান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কচুয়া, তারাপীঠ, তারকেশ্বর, কঙ্কালীতলা, বক্রেশ্বর থেকে শুরু করে ফুরফুরা শরিফ পর্যন্ত উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। দক্ষিণেশ্বর ও কালীঘাটের সংযোগকারী স্কাইওয়াক সম্পূর্ণ হয়েছে, আর শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের কাজও এগোচ্ছে।
রাজনৈতিক বক্তব্যেও সমালোচনা শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের সময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার দাবি করলেও প্রতিপক্ষ দল ভোটের পর সেই সম্পর্ক বজায় রাখে না। মানুষে মানুষে বাস্তব সম্পর্কই সব এই বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশাসনের উদ্যোগ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই প্রকল্পগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
দুর্গাঙ্গন তাই শুধু নতুন একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং ধর্মীয় সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনার সমন্বয়ে তৈরী এক আধুনিক তীর্থক্ষেত্র। উদ্বোধনের পর এটি কলকাতার নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা করছে রাজ্য সরকার।
