
অযোধ্যার রাম মন্দিরে আজ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ধ্বজ আরোহণ উৎসব, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিবাহ পঞ্চমীর শুভ তিথিতে এই অনুষ্ঠান ঘিরে অযোধ্যা শহরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, দর্শনার্থীদের ভিড়ও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। প্রশাসন জানিয়েছে, সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছতে পারেন।
মন্দির কর্তৃপক্ষের মতে, ধ্বজ আরোহণ রীতিটি রামভক্তদের কাছে এক বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য বহন করে। ভগবান রামের বিজয়, সুরক্ষা ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে এই ধ্বজ উত্তোলনকে মনে করা হয় শুভ শক্তির আহ্বান। আজকের এই অনুষ্ঠানটা আরও বিশেষ কারণ প্রথমবারের মতো নবরূপে গড়ে ওঠা মন্দিরে এই পবিত্র আচার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বহু ভক্ত বহুদিন ধরে এই দিনের অপেক্ষায় ছিলেন। মন্দিরের প্রধান পুরোহিতেরা ভোর থেকে যজ্ঞ ও মঙ্গল আরতির আয়োজন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর পর পরিধান করবেন বিশেষভাবে প্রস্তুত ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত নিয়ম অনুযায়ী নিজ হাতে ধ্বজ উত্তোলন করবেন। সেই মুহূর্তকে ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল উত্তেজনা। ভক্তদের অনেকে জানান, আজকের দিনটিকে তাঁরা ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। অযোধ্যার দোকানপাট, মন্দির সজ্জা ও রাস্তাঘাটে এদিন ভোর থেকেই সাজ সাজ রব।
উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসাও চাঙ্গা হয়েছে। ধর্মীয় পণ্য, প্রাসাদিক সামগ্রী এবং খাদ্যের দোকানে ভিড় উপচে পড়েছে। শহরের হোটেল, লজ, ধর্মশালাগুলোও পূর্ণ। পর্যটন দফতর জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে অযোধ্যায় ভক্ত সমাগম কয়েকগুণ বেড়েছে।
আজকের এই ধ্বজ আরোহণ উৎসব শুধু আধ্যাত্মিক নয়, অযোধ্যার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেতনারও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। ভক্তদের মতে, এই মুহূর্তের সাক্ষী থাকা তাঁদের জীবনের অন্যতম বড় সৌভাগ্য।
