
পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোর করে গর্ভপাতের যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, দীর্ঘ তদন্তের পরে তা আর টিকল না। নবগ্রাম থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগে বলা হয়েছিল, বহু বছর আগে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহারাজ নাকি শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেছিলেন অভিযোগকারীকে। ঘটনাটির সময়কাল হিসেবে উল্লেখ ছিল ২০১২ সাল, যা নিয়ে তখনই প্রশ্ন উঠেছিল কেন এতদিন পর অভিযোগ করা হল।
অভিযোগের পর পুলিশ পক্ষ থেকে মহিলার মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, অভিযোগকারিণীর বক্তব্য এবং ঘটনার ধারাবিবরণী নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়তে থাকে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ব্যাপক অনুসন্ধান হলেও ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসে নানা তথ্য, যা অভিযোগকারীর বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে। একাধিক অসামঞ্জস্যের কারণে তদন্ত কার্যত মাঝপথে থমকে যায়।
অভিযোগ উঠতেই কার্তিক মহারাজ জানিয়েছিলেন যে তিনি তদন্তের মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণহীন বলেই বিশ্বাস করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তদন্তে সেই অবস্থানই শক্তিশালী হয়। গুরুতর অভিযোগে ঘনিয়ে ওঠা কলঙ্কের মেঘ শেষ পর্যন্ত কেটে যায়।
দীর্ঘ কয়েক মাসের নীরবতা ও বিতর্কের পর মহারাজ এখন আবারও তাঁর পূর্বের কাজেই মনোনিবেশ করেছেন। শাস্ত্র অধ্যয়ন থেকে শুরু করে সমাজসেবামূলক নানা কার্যক্রম সব ক্ষেত্রেই তিনি আগের মতো সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে দাবি, জনজীবনে সক্রিয় থাকা এবং বিভিন্ন বিষয়ে মত প্রকাশের কারণে তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামাজিক বিষয় নিয়ে তিনি প্রায়ই প্রকাশ্যে মতামত দেন, যা অনেকের বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল।
এখন অভিযোগের কালিমা দূর হওয়ায় তিনি আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছেন। তাঁর বক্তব্য, সমাজের কাজে নিয়োজিত থাকলে বাধা আসবেই এবং সমালোচনাকে সামলেই এগিয়ে যেতে হয়।
