
কেন্দ্রের ওয়াকফ সংশোধন আইনের ঢেউ প্রথমে ঠেকাতে চেয়েছিল নবান্ন। কিন্তু আদালতের দরজায় বারবার কড়া নেড়েও যখন স্বস্তির আলো দেখা গেল না, তখন শেষমেশ মাথা নুইয়ে আইনের পথে হাঁটল রাজ্য। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের সচিব ড. পি. বি. সালিম জেলাশাসকদের হাতে ধরিয়ে দিলেন জরুরি নির্দেশের চিঠি। স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আর দেরি নয়, ৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই রাজ্যের সব ওয়াকফ সম্পত্তির খতিয়ান পৌঁছে দিতে হবে কেন্দ্রীয় পোর্টালে ‘umeedminority.gov.in’-এ।
নতুন আইনের নির্দেশে দেশের সব নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে তোলা বাধ্যতামূলক। সময়সীমা মাত্র ছ’মাস। আর এ সময়সীমা শেষ হতে হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি। পশ্চিমবঙ্গে ৮২ হাজারের বেশি ওয়াকফ সম্পত্তি, প্রায় ৮ হাজার এস্টেট এত বিপুল তথ্য অল্প সময়ে সাজিয়ে তোলা প্রশাসনের কাছে প্রায় ম্যারাথন দৌড়ের মতোই কঠিন। তবুও আর কোনও উপায় না থাকায় নবান্ন এখন পূর্ণোদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়েছে কাজে।
জেলাশাসকদের পাঠানো নির্দেশপত্রে রয়েছে চার দফার স্পষ্ট রূপরেখা। প্রথমেই মুতাওয়াল্লি, ইমাম, মোয়াজ্জিন ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করে বোঝাতে হবে আপলোড প্রক্রিয়া। বেছে নিতে হবে কেবল অ-বিতর্কিত সম্পত্তির তথ্য। প্রয়োজনে খুলে ফেলতে হবে প্রযুক্তিগত সহায়তার কেন্দ্র। আর তদারকিতে মাঠে নামবেন রাজ্যস্তরের অফিসাররা।
রাজনৈতিক জল্পনাও কম নয়। রাজ্যের এক বৃহৎ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তিকে ঘিরে। নতুন আইনকে ঘিরে আগেও বিবাদের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছিল রাজ্যজুড়ে। তারপরও কেন্দ্রীয় আইনের সামনে আর কোনও ব্যারিকেড তুলতে পারল না নবান্ন।
এখন সময়ের কাঁটা ছুটছে দ্রুত। জেলা দপ্তরগুলিতে শুরু হয়েছে তীব্র দৌড়ঝাঁপ ম্যাপ, খতিয়ান, নথি সাজিয়ে চূড়ান্ত আপলোডের প্রস্তুতি। শেষ মুহূর্তের এই দিগ্বিদিক ছুটে চলা সফল হবে কি না, তা-ই এখন বড় প্রশ্ন।
