
২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির জেরে অবশেষে প্রকাশ্যে এল ‘অযোগ্য’ শিক্ষকদের পূর্ণ তালিকা। আদালতের নির্দেশে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট ও বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মান্য করেই ৫৪ পাতার এই তালিকা প্রকাশ করেছে রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। পাঠানো তালিকায় মোট ১৮০৬ জনের নাম রয়েছে, যাঁদের নিয়োগকে আদালত বেআইনি বলে ঘোষণা করেছিল। নবম–দশম ও একাদশ–দ্বাদশ দুই স্তরেরই নিয়োগে অযোগ্য ঘোষিত প্রার্থীদের নাম এতে অন্তর্ভুক্ত।
এই তালিকায় রয়েছে নাম, রোল নম্বর, সংশ্লিষ্ট বিষয়, জন্মসাল এবং বাবার নাম যা প্রকাশ করতে বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। আদালত জানায়, অযোগ্যদের পরিচয় প্রকাশ্যে আনতেই হবে, যাতে তাঁরা পরবর্তী কোনও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারেন। কারণ আগে দেখা গিয়েছিল, ‘অযোগ্য’ ঘোষিত কয়েকজন প্রার্থী ২০২৫ সালের একাদশ–দ্বাদশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আবারও অংশ নিয়েছিলেন এবং এমনকি ইন্টারভিউ তালিকাতেও তাঁদের নাম উঠে এসেছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন মামলা হয় এবং আদালত আরও কঠোর অবস্থান নেয়।
SSC জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ সম্পূর্ণভাবে মান্য করেই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও ২০২৫ সালের নিয়োগ পরীক্ষাও মামলার জেরে বিতর্কের মধ্যে রয়েছে, তবুও সরকার জানিয়েছে, আইনি কাঠামো মেনেই নিয়োগ এগোবে।
দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই বাতিল হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার চাকরি। নতুন তালিকা প্রকাশে স্বচ্ছতা দাবি করা চাকরি প্রত্যাশীদের একাংশ আশাবাদী হলেও, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর আবারও প্রশ্নচিহ্ন উঠে এসেছে। আদালতের নজরদারিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
