
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে নতুন বিতর্কে কেঁপে উঠেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহল। পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর তিন ম্যাচের নির্বাসন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের জেরে ফিফাকে ঘিরে আইনি সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। যোগ্যতা অর্জন পর্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দারা ওশিয়াকে কনুই দিয়ে আঘাত করার জন্য লাল কার্ড দেখেছিলেন রোনাল্ডো, যার ফলে তাঁর তিন ম্যাচ নির্বাসনের শাস্তি বহাল ছিল। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তাঁর খেলার সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফিফা আকস্মিকভাবে তাঁর নির্বাসন স্থগিত রাখার ঘোষণা করে। আর সেই সিদ্ধান্তই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।
বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ এবং ফুটবল প্রশাসকদের একাংশের অভিযোগ, ফিফা নিজস্ব নীতি শিথিল করে রোনাল্ডোর সুবিধা করে দিচ্ছে। অন্য দেশগুলির ফুটবলারদের নির্বাসন বহাল থাকলেও রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পক্ষপাতের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ডের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে পর্তুগালের গ্রুপের প্রতিপক্ষরা কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাসন স্থগিত রাখলে গ্রুপের সমতা নষ্ট হবে এবং প্রতিযোগিতায় তাদের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতে যদি কোনও দেশ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে, তাহলে ফিফাকে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের সিদ্ধান্ত নিয়মসঙ্গত এবং পক্ষপাতদুষ্ট নয়। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ দলগুলিকে দেখাতে হবে যে রোনাল্ডোর উপস্থিতি গ্রুপের প্রতিযোগিতায় বাস্তবিকভাবে ক্ষতি করবে। এর ফলে বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফাকে কঠিন আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
পর্তুগাল ইতিমধ্যেই রোনাল্ডোকে ছাড়া আর্মেনিয়াকে ৯–১ ব্যবধানে হারিয়েছে, তবে তাঁর বাকি দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল। বিতর্কের মাঝেই ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই রোনাল্ডো মাঠে নামতে পারবেন। এখন নজর বিশ্বজুড়ে ফুটবল সংস্থাগুলির পরবর্তী পদক্ষেপে।
