
২০২১ সালের পরাজয়ের কারণ খুঁজে বিজেপি এ বার আগেভাগেই জোর দিচ্ছে ‘সূক্ষ্ম ব্যবস্থাপনা’-য়। প্রচার, জনসভা, জাঁকজমক সবই থাকছে নিয়ন্ত্রিত পরিসরে। মূল ফোকাস একেবারে নীচেরতলার সংগঠনকে শক্ত করা। দলের একাংশের দাবি, আগের নির্বাচনে অতিরিক্ত আড়ম্বরের ফলে বুথ স্তরের কাজ ব্যাহত হয়েছিল। তাই ২০২৬–এর আগে আপাত নিষ্ক্রিয়তার পিছনে চলছে নিখুঁত সাংগঠনিক প্রস্তুতি।
২০২১ সালে নবান্ন অভিযান, ব্রিগেড সমাবেশ বা সর্বভারতীয় নেতাদের বিমানবন্দর হেলিপ্যাড দৌড় এসবেই নাকি শক্তিকেন্দ্রের কাজে ফাঁক পড়েছিল। নেতাদের কথায়, “কলকাতা অচল করলে মিছিলে ভিড় বাড়ে, কিন্তু ভোটে লাভ হয় না।” সেই কারণেই এ বার সদস্য সংগ্রহ থেকে বুথ কমিটি গঠন সব ক্ষেত্রেই নতুন নিয়ম। মিস্ড কলের সদস্যপদ বাতিল করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ফর্ম পূরণের পদ্ধতি। ‘সক্রিয় সদস্য’ হতে হলে অন্তত ৫০ জনকে সদস্য করতে হবে এমন কড়াকড়িও চালু হয়েছে।
বর্তমানে ‘বুথ সশক্তিকরণ দল’ গঠন করে রাজ্য নেতৃত্ব বুথ পর্যন্ত পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে। নীচেরস্তরের পদাধিকারীরা কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেও সক্রিয় কি না তা যাচাই করতে চলছে ডিজিটাল সমীক্ষা। এতদিনে প্রায় ৭০ হাজার বিএলএ–২ নাম জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। যদিও অভিযোগ, এদের অর্ধেকই মাঠে খুব সক্রিয় নন। তবু বিজেপি নেতৃত্বের দাবি ঠিক কোন বুথে কী ঘাটতি রয়েছে, তা আগাম বোঝার সুযোগ পেয়েছে দল।
রাজ্যে সাংগঠনিক জোর বাড়াতে ইতিমধ্যেই দিল্লি, হিমাচল, ছত্তীসগড়, অরুণাচলসহ একাধিক রাজ্যের অভিজ্ঞ নেতাকে পাঠানো হয়েছে। পাঁচটি জ়োনে ভাগ করে তাঁরা তদারকি শুরু করেছেন। প্রতিটি স্তরের পদাধিকারীকে আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুযোগ না থাকে।
রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “জয় বা হার প্রত্যেক নির্বাচনই শেখায়।” যদিও তিনি ২০২১–এর ভুল সংশোধনের কথা সরাসরি বলেননি, সাংগঠনিক গতি বলছে এ বার মূল লক্ষ্য বুথভিত্তিক শক্ত ঘাঁটি তৈরি করে ২০২৬–এর লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়ানো।
