
অসম বিধানসভা অবশেষে পাস করল প্রিভেনশন অফ পলিগ্যামি অ্যাক্ট ২০২৫, যার মাধ্যমে রাজ্যে বহু বিবাহ পুরোপুরি নিষিদ্ধ হল। সরকারপক্ষের জোর সমর্থনে বিলটি অনায়াসে পাস হলেও বিরোধী বেঞ্চ বিশেষ করে মুসলিম বিধায়কেরা এর কড়া বিরোধিতা করেন। তাঁদের অভিযোগ এই আইন সংখ্যালঘু সমাজকে লক্ষ্য করে তৈরি, যা ব্যক্তিগত অধিকারের পরিপন্থী এবং বহু জটিলতা তৈরি করবে।
বিল অনুযায়ী, নিয়ম ভেঙে একাধিক বিয়ে করলে ন্যূনতম দশ বছরের কারাদণ্ড হবে। সঙ্গে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রাখা হয়েছে। সরকার বলছে, রাজ্যের নারীদের পারিবারিক সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই আইন প্রয়োজন ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বহু বিবাহের প্রবণতা রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি বড় কারণ, আর নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যেই এ হার বেশি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বহু বিবাহের সামগ্রিক হার ১.৮, যেখানে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে তা ৩.৬ বলে দাবি করা হয়েছে।
বিরোধীরা যুক্তি দিয়েছেন, ব্যক্তিগত আইন অনেক ক্ষেত্রে রাজ্য আইনের ঊর্ধ্বে, ফলে বাস্তব প্রয়োগে বড় আইনি সংঘাত তৈরি হতে পারে। তাঁদের মতে, মুসলিম পার্সোনাল ল–এ একাধিক বিবাহ অনুমোদিত হলেও তার জন্য কঠোর বিধান আছে, আর সরকার ইচ্ছে করেই বিভাজন তৈরি করছে।
সরকারি শিবির পাল্টা জানিয়েছে, যদি ব্যক্তিগত আইন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ভবিষ্যতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পথও খুলে যেতে পারে। এরই মাঝে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে উত্তরাখণ্ড ইতিমধ্যেই এই নীতি কার্যকর করেছে এবং আরও কয়েকটি রাজ্য তা বিবেচনা করছে।
এর আগেও অসম সরকার বাল্যবিবাহ রোধে রাজ্যজুড়ে অভিযান চালিয়েছিল, যা নিয়েও ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মতে, বাল্যবিবাহ বা বহু বিবাহ উভয় ক্ষেত্রেই ধর্ম নয়, আর্থিক সংকটই প্রধান কারণ।
নতুন আইন পাসের পর রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরদার হয়েছে, আর এর বাস্তব প্রয়োগে ভবিষ্যতে আদালত ও প্রশাসনের ভূমিকা বড় হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
