
রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’ প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, বৃহস্পতিবার সরকারি এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পে অনুমোদিত শিক্ষাঋণের সংখ্যা এক লক্ষে পৌঁছেছে। ২০২১ সালে প্রকল্প চালু হওয়ার পর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই এত বড় সাফল্য রাজ্যের শিক্ষানীতির ক্ষেত্রে যা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, তরুণ প্রজন্ম যাতে আর্থিক চাপে পড়েও উচ্চশিক্ষার সুযোগ হারাতে না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড তৈরি। এই প্রকল্পে ছাত্রছাত্রীরা সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারে, তাও অত্যন্ত স্বল্প সুদের হারে। সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় ঋণের সুদের সম্পূর্ণ বোঝা বহন করে রাজ্য সরকারই। ফলে পরিবারের আর্থিক অবস্থার কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে।
শুরু থেকেই প্রকল্পটি রাজ্যজুড়ে বিপুল সাড়া পায়। দেশের নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোক কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষা নানা ক্ষেত্রে পড়তে যাওয়া অসংখ্য ছাত্রছাত্রী জানিয়েছেন, এই কার্ড তাঁদের ভবিষ্যতের পথ খুলে দিয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে নিয়মিত প্রচার ও সহজ আবেদনপদ্ধতির ফলে দ্রুত বেড়েছে ঋণ অনুমোদনের হার।
এক লক্ষে পৌঁছনো এই মাইলফলক সামনে রেখে প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। সূত্রের খবর, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, গবেষণা, উদ্ভাবন বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আরও বেশি সুযোগ দিতে নীতিগত উন্নয়ন করা হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া তৃণমূল সরকারের পুরনো নীতি। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের ব্যাপক সাফল্য সেই নীতির প্রতিফলন। উচ্চশিক্ষাকে সর্বস্তরের নাগরিকের নাগালে আনার উদ্যোগে এই প্রকল্পকে তাঁরা ‘গেম চেঞ্জার’ বলেই মনে করছেন।
মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই X-এ (টুইটার) লিখেছেন, এই উদ্যোগ তরুণদের স্বপ্নকে আরও শক্ত ভিত দেবে। সকল ছাত্রছাত্রীকে জানিয়েছেন শুভেচ্ছা ও ভবিষ্যতের জন্য আশীর্বাদ।
শিক্ষাজগৎ বলছে, এক লক্ষ ঋণ অনুমোদনের লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়া প্রমাণ করে প্রকল্পটি শুধু জনপ্রিয় নয়, বাস্তবিকভাবেই ছাত্রছাত্রীদের জীবনে পরিবর্তন আনছে। রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গঠনে এই পদক্ষেপ বড় ভূমিকা রাখবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
