
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদুপির শ্রীকৃষ্ণ মঠে অনুষ্ঠিত লক্ষ-কণ্ঠ গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নতুন ভারতের শক্তি, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তায় দেশের অটল অবস্থানের কথা তুলে ধরলেন। বৃহস্পতিবার রোড শো সেরে তিনি মঠে পৌঁছন এবং ‘Laksha Kantha Gita Parayana’-এ যোগ দেন, যেখানে এক লক্ষেরও বেশি মানুষ একসঙ্গে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শ্লোক পাঠ করেন। স্কুল–কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে সন্ন্যাসী ও গবেষক সকলের অংশগ্রহণে এই আয়োজন দেখে আবেগাপ্লুত হন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মোদী জানান, আগের সরকারগুলির তুলনায় আজকের ভারত পাল্টে গেছে। তাঁর কথায়, “নতুন ভারত মাথা নত করে না, নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে এক ইঞ্চিও পিছিয়ে যায় না।” অপারেশন সিঁদুরে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের সুদর্শন চক্র যে শত্রুকে নিধন করতে পারে, আমরা তা প্রমাণ করেছি।”
অনুষ্ঠানে মোদী উদ্বোধন করেন সোনালি ছাউনি দেওয়া ‘কণক কাবচ’ ও ‘সুবর্ণ তীর্থ মণ্ডপ’। এই স্থানই সন্ত কনকদাস ভগবান কৃষ্ণের দর্শন পেয়েছিলেন, তাই প্রতীকীভাবে তা অত্যন্ত পবিত্র। সম্প্রতি কুরুক্ষেত্র সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “গীতার ভূমি থেকে কৃষ্ণভক্তির এই পুণ্যভূমিতে আসা আমার কাছে আশীর্বাদ।”
মোদী আরও জানান, গীতার বাণী শুধু ব্যক্তিকে পথ দেখায় না, দেশের নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। অযোধ্যায় রামমন্দির প্রতিষ্ঠা এবং উদুপির ‘গুড গভর্ন্যান্স’-এর ঐতিহ্যও তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে। স্থানীয় শিশুদের আঁকা তাঁর প্রতিকৃতি সংগ্রহ করতে নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশও দেন তিনি, যা সকলের নজর কাড়ে।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বড় খবর আগামী ৪–৫ ডিসেম্বর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের সফরে আসছেন। মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ছাড়াও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ নির্ধারিত হয়েছে।
