
আমেরিকা–ভেনেজ়ুয়েলা সম্পর্কের চিরাচরিত উত্তেজনা ফের তীব্র হয়ে উঠেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠাৎ বার্তাকে কেন্দ্র করে। শনিবার সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভেনেজ়ুয়েলা এবং তার আশপাশের আকাশসীমা “সম্পূর্ণ বন্ধ” বলে ধরে নিতে হবে সকল বিমান সংস্থা, পাইলট এবং সংশ্লিষ্টদের জন্য তিনি এই সতর্কতা জারি করেন। ট্রাম্পের এই এক লাইনের বার্তাই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ভেনেজ়ুয়েলা সরকার। ট্রাম্পের মন্তব্যকে তারা “ঔপনিবেশিক হুমকি” বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী এবং ভেনেজ়ুয়েলার সার্বভৌমত্বকে খর্ব করে। দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে ক্রমাগত অবনতির দিকেই গিয়েছে। আমেরিকার তরফে অভিযোগ ভেনেজ়ুয়েলার মদতে মাদক পাচারকারীরা অবাধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক প্রবেশ করাচ্ছে। এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে মাদুরো সরকার।
গত তিন মাস ধরে ভেনেজ়ুয়েলার আশপাশে মার্কিন রণতরী ও ডুবোজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এগুলি মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান। সমুদ্রপথে সন্দেহজনক বহু জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প সেনা কর্তাদের জানান, মাদকচক্র দমনে “কঠোর ভূমি অভিযান” শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরাসরি সামরিক হামলার বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা মেলেনি।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই নতুন নির্দেশ সম্পর্কে মার্কিন প্রশাসনের বহু আধিকারিকই অবহিত নন। পেন্টাগনও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। ফলে বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠেছে এটি কি শুধুই চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি সত্যিই ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পূর্বাভাস?
পরিস্থিতি ধোঁয়াশাই রয়ে গিয়েছে। তবে ট্রাম্পের বার্তা প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্দরে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার আকাশে কি তবে বড়সড় সংঘাতের ঘ্রাণ?
