
ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ফিনল্যান্ড আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড়সড় রদবদলের পথে হাঁটছে। শনিবার সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং মায়ানমার ভারতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ থেকে দূতাবাস গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে ২০২৬ সালের মধ্যে। দীর্ঘ পর্যালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের ব্যাখ্যা।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এই তিন দেশে ক্রমাগত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সীমিত বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কারণেই দূতাবাস বন্ধ করার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে ফিনল্যান্ড। ইসলামাবাদ, কাবুল এবং ইয়াংগনে দূতাবাস চালিয়ে যাওয়া কৌশলগতভাবে লাভজনক নয় বলে মনে করছে দেশটি। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী নিজেদের কূটনৈতিক উপস্থিতি নতুন করে সাজাতে চাইছে ফিনল্যান্ড সরকার। আমেরিকার হিউস্টনে নতুন কনসুলেট স্থাপনের পরিকল্পনাও এই বৃহত্তর পুনর্গঠনের অংশ।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক বর্তমানে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সীমান্তে সংঘর্ষ, বোমা হামলা এবং পাল্টা আঘাত দুই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে টালমাটাল করে তুলেছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও অস্থির, ইমরান খানের পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। অন্য দিকে, ২০২১ সালের সেনাশাসনের পর থেকে মায়ানমারে ব্যাপক গৃহযুদ্ধ চলছে। তিন দেশেই কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকা ফিনল্যান্ডের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছিল।
ফিনল্যান্ডের মতে, যেসব দেশ তাদের কৌশলগত ভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে সম্পদ ও জনবল কেন্দ্রীভূত করাই ভবিষ্যতের লক্ষ্য। তাই কিছু পুরনো মিশন বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। তবে দূতাবাস গুটিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে তিন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
