
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলায় তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ করে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নতুন মোড় এনে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। রায় প্রকাশের পরই নবান্ন ও শিক্ষা দফতরে স্পষ্ট স্বস্তির হাওয়া। ভোটের আগে এই রায় শাসক শিবিরে বাড়তি শক্তি জোগাল বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
রায় ঘোষণার পর প্রথমে এসএসসি দফতর, পরে তৃণমূল ভবনে প্রেস কনফারেন্স করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। নাম না করেই তাঁর মন্তব্য, “ভগবান শয়তানে পরিণত হয়েছে।” লক্ষ্যবস্তু যে বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। ব্রাত্যের দাবি, আইনই শেষ কথা বিচারক বদলায়, রায় বদলায়, কিন্তু আইনের জয় হয়। এই রায় তা-ই প্রমাণ করল।
৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের উদ্দেশে তিনি বলেন, “চিনে নিন কারা আপনাদের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে।” তাঁর কটাক্ষ, যদি কেউ এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায়, তাহলে বোঝা যাবে কারা চাকরি কেড়ে নিতে চায়। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, নতুন নিয়োগ পরীক্ষা সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতেই হবে।
ব্রাত্যর পর তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীও অভিজিৎকে লক্ষ্য করে কড়া মন্তব্য করেন। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় একদা বলেছিলেন “ঢাকি-সহ বিসর্জন দিয়ে দেব” এই মন্তব্য ঘুরিয়ে অরূপের তির, “চাকরিখেকোদের ঢাকি-সহ বিসর্জন দিল বঙ্গোপসাগরে।” তাঁর দাবি, রায় প্রমাণ করল রাজ্যের নিয়োগ প্রক্রিয়াই ছিল স্বচ্ছ।
অন্যদিকে, সিপিএম সাংসদ ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছিলেন বিচারকরা আবেগতাড়িত হয়ে রায় দিয়েছেন। সেই প্রশ্নে ব্রাত্যের জবাব, আইনের কাছে আবেগের কোনও দাম নেই।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শাসক শিবিরের এই আক্রমণ রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রাইমারি টেট মামলায় রায় বদল শুধু শিক্ষাজগতই নয়, সরাসরি প্রভাব ফেলেছে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
