
দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সকালে হঠাৎই দিল্লি উড়ে যান তিনি। সেখানে প্রথমে যান সংসদ ভবনে শাহর অফিসে। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে দু’জনের মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে শুভেন্দু জানান, ঠিক কী বিষয়ে কথা হয়েছে তা প্রকাশ্যে তিনি বলবেন না। তবে সূত্রের খবর, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষত এসআইআর-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর-কে শাহর ‘চালাকি’ বলে তোপ দেগেছিলেন। তৃণমূলের দাবি, বিজেপিকে ফায়দা পাইয়ে দিতে কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য সামনে আনছে। সেই আবহেই বিরোধী দলনেতার দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বেড়েছে রাজনৈতিক মহলে। শুভেন্দুর দাবি, পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তাঁর এই বৈঠক।
শুধু শাহর সঙ্গে দেখা করেই থামেননি শুভেন্দু। বৈঠকের পরই তিনি যান জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে। সেখানে নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। কমিশন থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ২৬, ২৭ ও ২৮ নভেম্বর বিএলও-দের কাছ থেকে ওটিপি নিয়ে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারের তথ্য ডিজিটাইজড করা হয়েছে যা তাঁর মতে অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’ এবং ‘আশঙ্কাজনক’। তাঁর অভিযোগ, অনেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর নাম-পরিচয় বদলে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় এমন ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজনীতির অন্দরে। তৃণমূল পাল্টা দাবি করেছে, বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে শুভেন্দুর হঠাৎ দিল্লি-যাত্রা ও শাহের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও। ভোটের আগে এ ধরনের গোপন আলোচনার অর্থ কী তা নিয়েও জল্পনার পারদ চড়ছে।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের এই টানাপোড়েনে শুভেন্দুর দিল্লি সফর যে ভবিষ্যতে বড় কোনও ইঙ্গিত দিতে পারে, তা অনুমান করছেন অনেকেই।
