
বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন দু’দিকেই একযোগে নেমেছে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। আর সেই কারণেই রাজ্যের আমলা-বৃত্তে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
গত সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন হঠাৎ করে ১৩ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে, যাঁদের দায়িত্ব ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকর খুঁজে দেখা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত এক আইএএস সহ পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের সিনিয়র আমলারা। জেলা ধরে ধরে তাঁরা ইতিমধ্যেই পরিদর্শন শুরু করেছেন।
ঠিক এই সময়েই নবান্ন জারি করল নতুন নির্দেশ—সরকারি প্রকল্পের গতিপ্রকৃতি খতিয়ে দেখতে ১৩ জন শীর্ষ আইএএস অফিসারকে মাঠে পাঠানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে জারি হওয়া অর্ডারে বলা হয়েছে, ‘বাংলার বাড়ি’, ‘পথশ্রী–রাস্তারশ্রী’, এবং ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পগুলির দ্রুত ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সরেজমিন নজরদারি। তাই একাধিক সচিব-স্তরের আমলাকে জেলা ও কলকাতা পুরসভায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, কমিশন ও নবান্ন দু’দিক থেকেই একই সময়ে বড় নজরদারি শুরু হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। কারণ, কমিশন যখন পর্যবেক্ষকদের জন্য নবান্নের কাছে অফিসারের নাম চেয়েছিল, তখন সচিবদের নাম বাদ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ঘটনাচক্রে, নবান্নের নতুন নির্দেশিকায় সেই সচিবদের অনেকেরই নাম রয়েছে।
আইএএসরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন, কোথাও বিলম্ব বা অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবেন। তাঁদের রিপোর্ট সরাসরি মুখ্যসচিবের দফতরে পৌঁছবে।
অভিজ্ঞ মহলের ব্যাখ্যা বৃহৎ পরিসরের প্রকল্পে সরাসরি আমলা পাঠানো হলে কাজের গতি ও মান বাড়ে। স্থানীয় বাস্তব চিত্রও স্পষ্ট হয়। তবে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রকল্প নজরদারি জোরদার হওয়ায় রাজনৈতিক মহলেও এর ব্যাখ্যা নিয়ে নানা মত ঘুরছে।
একদিকে ভোটার তালিকা পরিষ্কারকরণ, অন্যদিকে প্রকল্প তদারকি দু’টি পদক্ষেপ মিলিয়ে বাংলার প্রশাসনিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে।
