
রাজ্যে মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারহীন বুথের সংখ্যা আরও কমল। প্রথমে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, গত এক বছরে এমন ২৩০০-রও বেশি বুথে না কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়েছে, না কেউ অন্যত্র সরে গিয়েছেন। পরে সেই সংখ্যা নির্দিষ্ট করে ২২০৮ বলে জানানো হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির কাছ থেকে বিস্তর তথ্য চাওয়ার পর পরিসংখ্যান বদলাতে শুরু করে। বুধবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪৮০-এ। আর বৃহস্পতিবার সর্বশেষ তথ্য বলছে, রাজ্যে মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারহীন বুথ এখন মাত্র সাতটি।
কমিশনের হালফিল তথ্য অনুযায়ী, জলপাইগুড়িতে একটি, মালদহে দু’টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একটি, হাওড়ায় একটি, পশ্চিম মেদিনীপুরে একটি এবং পুরুলিয়ায় একটি করে বুথে গত বছর কোনও ভোটারের মৃত্যু, স্থানান্তর বা নিখোঁজের ঘটনা নেই। এই বুথগুলিতে যে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করা হয়েছিল, সব ক’টি ফর্মই পূরণ করে জমা পড়েছে। কারও নাম একাধিক জায়গায় পাওয়া যায়নি বলেও কমিশন জানিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রথম পর্যায়ের রিপোর্টে সবচেয়ে বেশি ‘শূন্য পরিবর্তন’ বুথ ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সংখ্যা ছিল ৭৬০। সেই সংখ্যাই এখন নেমে এসেছে মাত্র একে, যা পরিসংখ্যানের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল থেকে আমজনতা পর্যন্ত।
৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলছে। বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও) ইতিমধ্যেই অধিকাংশ ফর্ম সংগ্রহ করে পোর্টালে আপলোডের কাজ প্রায় শেষ করেছেন। কমিশন সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে ফর্ম আপলোডের শেষ দিন ১১ ডিসেম্বর। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ১৬ ডিসেম্বর, আর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পাবে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি।
রাজ্যের ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, সেই সময় মাত্র সাতটি ‘অপরিবর্তিত’ বুথের এই তথ্য প্রশাসনিক তৎপরতার নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
