
কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন তরঙ্গ। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় খারিজ করে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্র জানান, নিয়োগে অনিয়ম থাকলেও এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করা যাবে না। ন’বছর ধরে চাকরি করা এই প্রার্থীদের জীবিকা এবং তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই মানবিক দৃষ্টিতে রায় দিয়েছে আদালত।
তদন্তে উঠে এসেছে ২৬৪ জনকে অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে উত্তীর্ণ করানো হয়েছিল। আরও ৯৬ জন ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জন না করেই চাকরি পেয়েছিলেন। বেঞ্চ জানায়, কিছু প্রার্থীর অনিয়ম মানেই পুরো নিয়োগকে ভুয়ো বলা যায় না। তাই ৩২ হাজার নিয়োগ একযোগে বাতিলের কোনও আইনি ভিত্তি নেই।
এদিকে, মামলাকারীরা যদি এই রায় সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেন, তবে তাঁদের হয়ে শীর্ষ আদালতে লড়াই করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ ও আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, “যদি মামলাকারীরা সুপ্রিম কোর্টে যান, নিশ্চয়ই লড়ব।” পেশাগত কাজের ক্ষেত্রে বিকাশকে থামাবে না দল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর কথায়, “তিনি কী মামলা নেবেন বা নেবেন না, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।”
তৃণমূল শিবির এই রায়ে স্বস্তিতে, অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশে ম্রিয়মাণতা। ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের রায় ঘোষণার সময় যে উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল বিরোধীদের মধ্যে, এখন যেন তার উল্টো ছবি। সিপিএমের মধ্যেও বিরোধী সুর কারণ এই প্যানেলের মধ্যে দলীয় সমর্থকদের পরিবার থেকেও অনেকেই রয়েছেন। একজন প্রথম সারির নেতা বলেন, “বিকাশদা আইনগত ভাবে ঠিক বলছেন। কিন্তু যোগ্যদেরও একসঙ্গে দাগিয়ে দেওয়া সংগঠনে অস্বস্তি তৈরি করছে।”
৩২ হাজার চাকরি বহালের রায় ঘিরে তাই নতুন করে উত্তেজনা ও কৌশলী রাজনীতি, দলগুলোর হিসেব-নিকেশে খুলেছে নয়া অধ্যায়।
