
নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফর ঘিরে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। পালাম বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দু’জনকে একই গাড়িতে করে বেরোতে দেখা যায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উষ্ণতা যেন চোখে পড়ার মতো। মোদির বাসভবনে রাজকীয় নৈশভোজের আয়োজন রাখা হয়েছে, যেখানে দুই নেতাই অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে নানা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলাপ করবেন।
এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ইউক্রেন যুদ্ধের পর এই প্রথমবার ভারত-পা রাখলেন পুতিন। গত বছর মোদির মস্কো সফরের সময় পুতিন তাঁকে ব্যক্তিগত ডিনারে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তারই প্রতিদানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবনে বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করেছেন, যা দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করার প্রতীক বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
শুক্রবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে পুতিনকে দেওয়া হবে ত্রিপাক্ষীয় গার্ড অফ অনার। সেখান থেকে তিনি রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধিকে শ্রদ্ধা জানাবেন। তারপরই হায়দরাবাদ হাউসে শুরু হবে ২৩তম ভারত–রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য ঘাটতি, সব মিলিয়ে দুই দেশের আলোচনার পরিসর হবে বেশ বিস্তৃত।
ভারত বর্তমানে রাশিয়ার সারের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল, প্রায় ৩০ থেকে ৫০ লক্ষ টন সার প্রতি বছর রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। এ ছাড়াও সামুদ্রিক পণ্য, ফল, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ওষুধ এ সব ক্ষেত্রেও রফতানি বৃদ্ধির বিষয়ে নয়াদিল্লি আগ্রহী। দু’দেশই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সমঝোতার পথে এগোতে চাইছে।
প্রতিরক্ষা খাতে রাশিয়া ইতিমধ্যে নতুন চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ডিসেম্বরের মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে ভারত এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এই পটভূমিকায় পুতিনের সফর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, দিল্লি–মস্কো সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিমানবন্দরে মোদি–পুতিনের উষ্ণ আলিঙ্গন এবং পাশাপাশি গাড়িতে চড়া দু’দেশের দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্বের ছবি যেন আরও স্পষ্ট করেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল সমীকরণের মাঝেও ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক যে আগের মতোই অটুট, তারই ইঙ্গিত মিলেছে বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনাপ্রবাহে। আগামি সম্মেলনে সেই বন্ধুত্ব কতটা বাস্তব সহযোগিতায় রূপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সারা বিশ্বের।
