
মালদহে প্রশাসনিক কাজ সেরে বুধবার বহরমপুরে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্দেশ্য ছিল ৩২ হাজার চাকরি বহাল রাখার হাই কোর্টের রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া। কিন্তু হুমায়ুন কবীরকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই দৃশ্যত বিরক্ত হন মমতা। ঠিক পরের দিন সকালেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে ফিরহাদ হাকিম ঘোষণা করেন, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুনকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হল। ওই সময়ই মমতার সভাস্থলে পৌঁছে ছিলেন তিনি। খবর পেয়েই সভাস্থল ছাড়েন।
এর পর দুপুরে মমতা বহরমপুরের মঞ্চে উঠে নাম না-করে হুমায়ুনকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে কেউ কেউ ‘বিজেপির টাকা খেয়ে ব্ল্যাকমেল’ করার চেষ্টা করেন। সংখ্যালঘু ভোটে বিভ্রান্তি ছড়াতে ‘নির্দল প্রার্থী দাঁড় করানোর’ চালও থাকতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। বিহারের উদাহরণ টেনে মমতার দাবি, নির্দলদের ভোট কাটলে লাভ হবে বিজেপিরই।
তৃণমূল সূত্রের খবর, হুমায়ুনের সাসপেনশন ছিল সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচির আগে তাঁকে দল থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। যাতে সেই কর্মসূচিতে তৃণমূলের ছাপ না-থাকে। পাশাপাশি, সংখ্যালঘু প্রতিনিধিকে শাস্তি দেওয়ার বার্তা যাতে ভুল ব্যাখ্যা না হয়, তাই ঘোষণা করিয়েছেন সংখ্যালঘু নেতা ফিরহাদ হাকিম দিয়ে।
হুমায়ুনকে ঘিরে দলের অন্দরে আরও অভিযোগ, তিনি নাকি বিজেপির এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক টানার লক্ষ্যে নতুন দল ঘোষণা করে ১৩৫ আসনে লড়ার পরিকল্পনাও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। অতীতে কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, সেখান থেকে বিজেপি হয়ে ফের তৃণমূলে যোগ হুমায়ুনের দলবদলের ইতিহাসও তুলে ধরছেন শাসকদলের নেতারা।
মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে গুজব ছড়ানো, হিংসার আশঙ্কা এবং ভোটের সময় সংখ্যালঘু এলাকায় উত্তেজনা তৈরির অভিযোগ তুলে মমতা সতর্কবার্তা দিয়েছেন “আমি আপনাদের পাহারাদার। কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না।” এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহেই নতুন দল নিয়ে ভোটে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হুমায়ুন কবীর।
