
নকল বা ডুপ্লিকেট ভোটার শনাক্তে আরও কঠোর পথে হাঁটল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার থেকেই চালু হয়েছে একেবারে নতুন সফটওয়্যার ‘ডেমোগ্রাফিক সিমিলার এন্ট্রিজ’ (Demographic Similar Entries)। কমিশনের দাবি, এই প্রযুক্তি ভোটার তালিকা স্বচ্ছ রাখার ক্ষেত্রে বড় বদল আনবে। একই নাম, ঠিকানা বা ব্যক্তিগত তথ্য ঘেঁটে সম্ভাব্য ডুপ্লিকেট ভোটারদের দ্রুত শনাক্ত করতে পারবে এই সফটওয়্যার।
ইতিমধ্যেই ইআরও–দের ড্যাশবোর্ডে এই নতুন ফিচার দেখা যাচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই ডিইও এবং পরে সিইও দফতরেও এটি যুক্ত হবে। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “এই সফটওয়্যার চালু হওয়ায় ডুপ্লিকেট এন্ট্রি খুঁজে পাওয়া আগের তুলনায় দ্রুত, নির্ভুল ও স্বয়ংক্রিয় হবে। এর ফলে ভোটার লিস্ট আপডেট আরও স্বচ্ছ হবে।”
বাংলায় SIR (Special Summary Revision) শুরু হওয়ার আগেই বিজেপির একাধিক নেতা দাবি করেছিলেন, এক কোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ যাবে। কিন্তু সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হতেই দেখা যায়, সংখ্যা তার ধারেকাছেও নয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অসংগৃহীত এনুমারেশন ফর্মের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২,০৮,৪৩১। এর মধ্যে মৃত ভোটার ২৩ লক্ষ ৩৪ হাজার, খোঁজ পাওয়া যায়নি ৯ লক্ষ ভোটারের, আর ১৮ লক্ষ ভোটার স্থায়ীভাবে রাজ্যের বাইরে চলে গিয়েছেন।
কমিশন সূত্রের বক্তব্য, নিচুতলা থেকে পাওয়া ইনপুটে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ছে। একই ব্যক্তির নাম বাংলার একাধিক জায়গায় বা এমনকি দেশের অন্য রাজ্যের ভোটার তালিকাতেও থাকতে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি কর্নাটক ও হরিয়ানার ভোটার তালিকায় একই ব্যক্তির একাধিক বুথে নাম থাকার উদাহরণ তুলে ধরেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সেই প্রেক্ষিতেও কমিশন আরও সূক্ষ্ম প্রযুক্তি প্রয়োগে জোর দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডেমোগ্রাফিক ছাঁকনি চালু হওয়ায় কমিশনের আশা,অদূর ভবিষ্যতে মৃত, ডুপ্লিকেট বা অকার্যকর নাম দ্রুত বাদ যাবে এবং রাজ্যের ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল, আধুনিক ও স্বচ্ছ হয়ে উঠবে।
