
ইন্ডিগোর দেশজুড়ে চলা ব্যাপক ফ্লাইট-বাতিলের জেরে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে। এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে এক যাত্রীর তীব্র ক্ষোভের অভিজ্ঞতা। চেন্নাই–দিল্লি রুটে রাতের ফ্লাইট হঠাৎ বাতিল হওয়ায় বাধ্য হয়ে ₹৮,৫০০ টাকার টিকিটের বদলে ₹৭১,০০০ দিয়ে নতুন টিকিট কাটতে হয়েছে।
এক যাত্রী জানান, রাতেই ইন্ডিগোর কাছ থেকে ফ্লাইট বাতিলের বার্তা আসে। পরদিন সকালে দিল্লিতে ভাইয়ের বাগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা জরুরি হওয়ায় তড়িঘড়ি অন্য ফ্লাইট খোঁজা শুরু করেন। কিন্তু ট্রাভেল পোর্টালে বেশিরভাগ ফ্লাইটের সিট উধাও, আর যেগুলি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলির দাম সাধারণ ভাড়ার তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ। শেষ পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়ার একটি সিট মিললেও তার ভাড়া ছিল ₹৭১,০০০, এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে তিনি বর্ণনা করেছেন “সুযোগের সদ্ব্যবহার” হিসেবে।
পরপর চার দিন ধরে ইন্ডিগোর ৫০০-রও বেশি ফ্লাইট বাতিল। দিল্লি, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু–সহ একাধিক বড় বিমানবন্দর থেকে রাতভর উড্ডয়ন স্থগিত। ডিউটি-আওয়ার ও বিশ্রামের নতুন নিয়ম (FDTL) নিয়ে সংস্থার পরিকল্পনাগত ত্রুটি এবং পাইলট ও ক্রু-সংকটকেই বিপর্যয়ের কেন্দ্র বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডিজিসিএ ইতিমধ্যেই উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, চলতি বিশৃঙ্খলা কাটাতে কিছু শিথিলতাও দেওয়া হয়েছে। বাতিল হওয়া টিকিটে স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড ও stranded যাত্রীদের থাকা–খাওয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
কিন্তু ক্ষুব্ধ যাত্রীদের দাবি, রিফান্ড পেলেও অতিরিক্ত যে বিপুল অর্থ দিতে হচ্ছে, তার কোনও প্রতিকার নেই। জরুরি প্রয়োজনের মুহূর্তে এমন বিশৃঙ্খলা না শুধু আর্থিক চাপ তৈরি করছে, বরং বিমান পরিষেবার উপর আস্থা গভীরভাবে নষ্ট করছে।
