
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছেই আমেরিকার শুল্কনীতি ও জ্বালানির দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে কড়া মন্তব্য করলেন। দিল্লিতে নেমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন স্পষ্ট বলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র নিজের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আজও রুশ জ্বালানি কিনছে, তখন ভারত কেন সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে?
মার্কিন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার চাপে ডিসেম্বর মাসে ভারতের রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে নীচে নামতে পারে, এমনটাই দাবি আন্তর্জাতিক মহলের। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, ভারত সস্তা রুশ তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে আর্থিকভাবে শক্তি জোগাচ্ছে। কিন্তু ভারত আগেই জানিয়েছে, যখন আমেরিকা ও ইউরোপ নিজেরাই রুশ LNG থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পর্যন্ত নানা পণ্য আমদানি করছে, তখন ভারতের ওপর চাপ প্রকৃতপক্ষে ‘অন্যায্য’। পুতিনও সেই অবস্থানকেই সমর্থন করে বলেন, “ওরা নিজেরাই কিনছে, ভারত কিনলেই সমস্যা কেন?”
মার্কিন শুল্কনীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুতিন জানান, ট্রাম্পের উপদেষ্টারা মনে করেন এই নীতি আমেরিকার লাভের জন্যই করা হচ্ছে। তবে তাঁর আশা WTO নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা শেষ পর্যন্ত সংশোধন হবে। পশ্চিমা দেশগুলির রুশ তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ ট্যাঙ্কারের ওপর চাপকে তিনি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেই উল্লেখ করেন।
পুতিনের সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা দিয়ে। তারপর রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি। হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত হবে ২৩তম ভারত–রাশিয়া শীর্ষ বৈঠক, যেখানে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, কৌশলগত সহযোগিতা, সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারত–রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের প্রেক্ষিতে পুতিন স্পষ্ট করে দিলেন, জ্বালানি বাণিজ্যে চাপ তৈরি করলেও বাজার বাস্তবতা কখনও আড়াল করা যায় না, আর ভারত নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।
