
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন ‘কালীঘাটের কাকু’ নামে পরিচিত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর স্থায়ী জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, এই জামিন নিঃশর্ত নয়, বরং কঠোর নজরদারির আওতায়ই মুক্ত থাকবেন সুজয়কৃষ্ণ।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সর্বপ্রথম তাঁকে নিজের পাসপোর্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা রাখতে হবে। তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে হাজিরা দিতে হবে নির্দিষ্ট সময়ে। পাশাপাশি একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর তদন্তকারী অফিসারকে জানিয়ে রাখতে হবে, যা সবসময় চালু থাকবে। আদালত আরও জানিয়েছে, কলকাতার বাইরে যেতে হলে তদন্তকারী সংস্থার অনুমতি জরুরি। প্রতি সপ্তাহে এক দিন তাঁকে সরাসরি তদন্তকারী সংস্থার দপ্তরে দেখা করতে হবে।
সিবিআই ও ইডি, দুই তদন্তকারী সংস্থাই বহুবার আদালতে দাবি করেছে যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ছিল সুজয়কৃষ্ণের। অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনিই ছিলেন এক অন্যতম মুখ। ২০২৩ সালে প্রথমে ইডি, পরে সিবিআই তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে নিয়োগ তালিকা বদলের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
তবে সুজয়কৃষ্ণের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল নির্দোষ এবং আইন মেনেই চলবেন। হাইকোর্টের প্রতিটি নির্দেশ তিনি পালন করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। সম্প্রতি নিয়োগ মামলায় জামিন পেয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক অভিযুক্ত। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জামিন পেলেন কালীঘাটের কাকুও।
এই মামলার সবচেয়ে নজরকাড়া দিক হলো, রাজ্যের উচ্চ পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ এবং তার শেকড় কতটা গভীরে। হাইকোর্টের শর্তসাপেক্ষে এই জামিন মামলার গতিপথে নতুন মোড় আনবে কি না, এখন সেদিকেই চেয়ে আছে রাজনৈতিক মহল থেকে গোটা রাজ্য।
