
ভারত-রাশিয়া কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও এক উজ্জ্বল প্রতীক যোগ হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকে। নয়াদিল্লিতে দুই দিনের সফরে এসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানোর মুহূর্ত থেকেই স্পষ্ট ছিল, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু কৌশলগত নয়, আবেগ ও আস্থার স্তম্ভেও দাঁড়িয়ে আছে। সেই বার্তাকেই আরও দৃঢ় করল মোদির বিশেষ উপহার, রুশ ভাষায় ছাপা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা।
পালাম বিমানবন্দরে সাদর অভ্যর্থনা, তারপর দুই নেতার একই গাড়িতে যাত্রা, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ যেন কূটনীতির বাইরে ব্যক্তিগত সৌহাদ্যেরও ইঙ্গিত। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদি লিখেছেন, “গীতা গোটা বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে প্রেরণার উৎস। সেই গ্রন্থের রুশ সংস্করণটি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে উপহার দিতে পেরে আনন্দিত।”
এই সফর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের চার বছর পর ভারতে ফিরে আসার মুহূর্ত। তাই স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব বেশি। আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২৩তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলন, যেখানে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, নতুন প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার নানা বিষয়ে নতুন রূপরেখা তৈরি হবে।
প্রাক্তন কূটনীতিক অরুণ সিং মনে করিয়ে দিয়েছেন, সোভিয়েত আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নানা সংকটে রাশিয়া ভারতের পাশে থেকেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাজনৈতিক সমর্থন হোক বা সামরিক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অস্ত্র, রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের নির্ভরযোগ্য সহযোগী। সাম্প্রতিক অপারেশন সিন্ধুর সময় S-400 এবং ব্রহ্মোসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মস্কো স্কুল অফ ম্যানেজমেন্টের ভারত–বিদ্যা বিভাগ প্রধান লিডিয়া কুলাইকের মতে, এই সফর একই সঙ্গে “প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ” কারণ দুই দেশই ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন গতিতে নিয়ে যেতে আগ্রহী। ভারতীয় পণ্যের জন্য রুশ বাজার খুলে দেওয়া, নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বিশ্বের বর্তমান অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা, সবই এই সফরের মূল আলোচ্য।
মোদি-পুতিনের সাক্ষাৎ তাই শুধু সফর নয়, এ এক বার্তা, দুই পুরনো মিত্র আবার নতুন যুগের পথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগোতে প্রস্তুত।
