
ভাঙড়ে আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতা। বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তর কাশিপুর থানার অন্তর্গত কাঠালিয়া সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূল ও আইএসএফ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের আবহ তৈরি হয়। অভিযোগ, তৃণমূল নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে আইএসএফ কর্মী-সমর্থকরা হঠাৎ গুলি চালায়, যাতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
সূত্রের খবর, রবিবার শোনপুরে তৃণমূলের ছাত্র-যুব জনসভা রয়েছে। সেই উপলক্ষে ভোগালী দু’নম্বর অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি আলিনুর মোল্লা-সহ দলের একাধিক নেতা কাঠালিয়া থেকে শোনপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, তাঁদের দেখে আইএসএফ সমর্থকরা প্রথমে গালিগালাজ করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকতেই আচমকা এক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুলির শব্দে চারপাশের মানুষ আতঙ্কে বাড়িতে আশ্রয় নেন।
ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যে খবর পৌঁছয় উত্তর কাশিপুর থানায়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে দ্রুত বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই পক্ষের কর্মীদের দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হয়। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ, “আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। নাটু, ক্ষুদ, সালাউদ্দিন এই সমাজবিরোধীদের হাতেই অস্ত্র ছিল। নওশাদ সিদ্দিকীর মদতেই এই হত্যার ছক কষা হয়েছিল।” তৃণমূল নেতা আলিনুর মোল্লা জানান, অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা হলে তাঁরা বড় আন্দোলনে নামবেন।
অন্যদিকে, আইএসএফ নেতা ওহিদুল ইসলাম এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, “সবটাই ভিত্তিহীন। তৃণমূলের নিজেরাই অশান্তি পাকিয়েছে। ওদের রাজনৈতিক মাটি সরে গিয়েছে বলেই এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে প্রচার চালাচ্ছে।”
এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে টহল দিচ্ছে উত্তর কাশিপুর থানার পুলিশ। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
