
কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড আবারও জমতে চলেছে বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। দু’বছর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আয়োজিত হয়েছিল ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’। এ বার সেই আয়োজন আরও বড় করে পাঁচ লক্ষ মানুষের জমায়েতের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’। রবিবারের এই গীতাপাঠকে ঘিরে সাজোয়া হচ্ছে ব্রিগেড জুড়ে তিনটি মঞ্চ একটি প্রধান মঞ্চ, দু’টি পার্শ্বমঞ্চ এবং সামনে একটি ছোট সাংস্কৃতিক মঞ্চ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বহু সর্বভারতীয় সাধুসন্ত স্বামী জ্ঞানানন্দ, রামদেব, ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী, সাধ্বী ঋতাম্ভরাদের মতো নামজাদা আধ্যাত্মিক গুরু। প্রধান অতিথিদের তালিকায় রয়েছেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের স্বামী প্রদীপ্তানন্দ, প্রেমমন্দিরের নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী এবং জগৎবন্ধু আশ্রমের বন্ধুগৌরব দাস মহারাজ। এ রাজ্যের বহু পরিচিত সাধুসন্তও থাকবেন পার্শ্বমঞ্চে।
রাজনৈতিক মহলেও এই আয়োজন নিয়ে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব দিলীপ ঘোষ, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী প্রথম এই কর্মসূচির ঘোষণা করলেও তিনি রবিবার থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির কর্মসূচিতে কম দেখা গেলেও দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি সকালেই ব্রিগেডে পৌঁছে যাবেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও কেউই উপস্থিত থাকছেন না। রাজ্যপাল বর্তমানে দিল্লিতে, আর মুখ্যমন্ত্রীও অংশ নেবেন না বলেই সূত্রের খবর।
২০২৩ সালে ‘লক্ষ কণ্ঠে’ গীতাপাঠে অংশগ্রহণের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তাই এ বার পাঁচ লক্ষের দাবি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়েই চর্চা তুঙ্গে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির কাছে এটি শক্তি প্রদর্শনের বড় সুযোগ বলেই মনে করছেন অনেকে। রবিবারের জমায়েতই দেখাবে, লক্ষ্যমাত্রা আদৌ ছোঁয়া যায় কি না।
