
দেশজুড়ে ইন্ডিগোর অচলাবস্থা পঞ্চম দিনেও কাটেনি। শুক্রবার একদিনে হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর শনিবারও বহু উড়ান বাতিল হয়েছে, যা যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। নতুন পাইলট ডিউটি-আওয়ার নিয়ম (FDTL) কার্যকর করার ক্ষেত্রে ভুল হিসেব ও পরিকল্পনার ঘাটতি থেকেই এই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে বলে ডিজিসিএ আগেই জানিয়েছে। প্রয়োজনীয় পাইলট সংখ্যা নির্ধারণে ব্যর্থ হওয়াই পরিস্থিতিকে চরমে তুলেছে।
অন্যদিকে, এই বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। আবেদনে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে, পাশাপাশি বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক ও ডিজিসিএকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে অবিলম্বে শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনেরও দাবি করা হয়েছে।
দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ শনিবার সকালে নির্দেশিকা জারি করে যাত্রীদের আগেভাগে ফ্লাইট স্ট্যাটাস দেখে বেরোতে পরামর্শ দিয়েছে। দীর্ঘ লাইনের চাপ কমাতে বুকিং সময় ও ডকুমেন্ট যাচাইয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। যদিও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, “সমস্যার উৎস ইন্ডিগো নিজেই।” তাঁর বক্তব্য, অন্য কোনও এয়ারলাইন্স নতুন FDTL নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এমন বিশৃঙ্খলায় পড়েনি। তাই সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এদিকে ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্স যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বার্তা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। বিশাল নেটওয়ার্ক, সিডিউল ও ক্রু-অপারেশনের জটিলতার কারণে কিছুটা সময় লাগছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ফ্লাইট বাতিল ও যাত্রীদের ক্ষোভের মধ্যে সংস্থার দাবি, “পরিস্থিতি স্বাভাবিকের পথে।” তবে আদালতে মামলার পর বোঝাই যাচ্ছে, ইন্ডিগোর এই সংকটের আইনি ও প্রশাসনিক তদারকি আরও কঠোর হতে চলেছে।
