
ভারতের জনপ্রিয় উৎসব দেওয়ালি এবার উঠতে চলেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আরও এক ধাপে। দুর্গাপুজো, গরবা, কুম্ভমেলা ও যোগ-এর পর এবার ইউনেস্কোর Intangible Cultural Heritage তালিকায় জায়গা পেতে পারে আলোয় ঝলমল করা এই উৎসব। আগামী ৮ ডিসেম্বর নয়াদিল্লির লালকেল্লার অভ্যন্তরে শুরু হচ্ছে ইউনেস্কোর শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (UNESCO) ছয় দিনের বিশেষ অধিবেশন, আর সেখানেই ১০ ডিসেম্বর হতে পারে ঐতিহাসিক এই ঘোষণা।
এই অধিবেশনেই পরীক্ষা হবে দেওয়ালির সাংস্কৃতিক মনোনয়ন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আলো, আধ্যাত্মিকতা, আনন্দ, পরিবার এবং সমাজের মিলনকে এক সুতোয় গেঁথে যে উৎসব ভারতীয় জীবনকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আলোকিত করে এসেছে, সেই দেওয়ালির বিশেষ ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে।
ইউনেস্কোর সেশনে যোগ দিতে আসছেন ১৮০টি দেশের হাজারের বেশি প্রতিনিধি। থাকবেন কমিটির সদস্য, বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা। প্রথমবার ভারতে আয়োজিত হওয়া এই অধিবেশন ঘিরে কেন্দ্রও অত্যন্ত আশাবাদী। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত জানিয়েছেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনই বিশ্বমঞ্চে সাংস্কৃতিক কূটনীতি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
অধিবেশনের মূল আলোচ্য বিষয় হবে বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্য রক্ষায় উদ্যোগ, প্রাচীন শিল্প ও স্থানীয় পরম্পরা সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক তহবিল গঠন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। ভারতে লালকেল্লার মতো ঐতিহাসিক স্থানে এই সম্মেলন আয়োজন নিঃসন্দেহে সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ভারতীয় সংস্কৃতির বহুমুখী ঐতিহ্যের মধ্যে দেওয়ালির স্থান বরাবরই অনন্য। আলো দিয়ে অন্ধকার জয়, শুভ শক্তির প্রতীক, সামাজিক মিলন আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাকে ধারণ করে এই উৎসব। ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেলে শুধু দেশের গর্বই বাড়বে না, আন্তর্জাতিক পর্যটনের ক্ষেত্রেও খুলবে নতুন জানালা।
অপেক্ষা এখন ১০ ডিসেম্বরের। আলোয় আলোকিত এই উৎসব এবার সত্যিই আন্তর্জাতিক মুকুট পেতে চলেছে, এমনই ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞ মহলে।
