
শুক্রবার লোকসভায় কর্মীদের নির্ধারিত কাজের সময় বা ডিউটি আওয়ার্সের বাইরে কাজসংক্রান্ত ফোন ও ইমেইলের জবাব না দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে একটি প্রাইভেট মেম্বার বিল পেশ করা হয়েছে।
সংসদের দুই কক্ষের সদস্যরা কোন বিষয় দলীয় এজেন্ডাতে না থাকলেও, সরকারের আইন প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অধিবেশন চলাকালীন প্রতি শুক্রবার প্রাইভেট মেম্বার বিল আনতে পারেন। তবে সাধারণত সরকার তার অবস্থান জানালে এই বিলগুলো প্রত্যাহার করা হয়।
‘রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল, ২০২৫’
এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে শুক্রবার এই বিলটি পেশ করেছেন। বিলটিতে কর্মীদের জন্য একটি ‘এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার অথরিটি’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এর লক্ষ্য—
অফিস সময়ের বাইরে এবং ছুটির দিনে কাজসংক্রান্ত ফোন, মেল বা মেসেজে সাড়া না দেওয়ার আইনগত অধিকার প্রদান। কর্মীরা চাইলে এমন যোগাযোগ গ্রহণ বা জবাব দিতে অস্বীকার করতে পারবেন।
ঋতুস্রাব-সহায়তা সংক্রান্ত বিল
কংগ্রেস সাংসদ কাদিয়ামা কাব্যা ‘ঋতুস্রাব-সহায়তা বিল ২০২৫’ পেশ করেছেন। এর উদ্দেশ্য:
নারীকর্মীদের ঋতুস্রাবের সময় সময় কর্মস্থলে প্রয়োজনীয় সুবিধা ও সহায়তা নিশ্চিত করা। এই সংক্রান্ত একটি আইনি কাঠামো গঠন।
এলজেপি সাংসদ শম্ভাবী চৌধুরী আরেকটি বিল পেশ করেন, যাতে কর্মরত নারী ও ছাত্রীদের পেইড মেনস্ট্রুয়াল লিভ, ঋতুস্রাব চলাকালীন স্বাস্থ্যবিধি সুবিধা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড রদ করার বিল
করুনানিধি কন্যা ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি ভারতে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করার প্রস্তাব নিয়ে একটি বিল পেশ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভারতে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের দাবি উঠলেও, কেন্দ্রের বিভিন্ন সরকার কঠোর অপরাধে এটি অপরিহার্য বলে মত দিয়েছে।
প্রায় দশ বছর আগে আইন কমিশনও মৃত্যুুদণ্ড ধাপে ধাপে তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল, সন্ত্রাসবাদী মামলার ব্যতিক্রম রেখে।
সাংবাদিক সুরক্ষা বিল
নির্দল সাংসদ বিশালদাদা প্রকাশবাপু পাটিল সাংবাদিক সুরক্ষা বিল, ২০২৫ পেশ করেছেন। এর লক্ষ্য – সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক আচরণ রোধ, সাংবাদিক ও তাঁদের সম্পত্তির সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া।
এই প্রাইভেট মেম্বার বিলগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক, কর্মক্ষেত্র ও মানবাধিকার সংক্রান্ত ইস্যুতে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।

