
শীত পড়লেই সবচেয়ে আগে যে অস্বস্তিটা চোখে পড়ে, তা হল হাতের ত্বকের রুক্ষতা। ঠান্ডা হাওয়া আর কম আর্দ্রতার কারণে হাতের ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়, খসখসে হয়ে ফেটে চৌচিরও হতে পারে। এমন অবস্থায় শুধু মুখের যত্ন নিলেই হবে না, হাতকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একটু নিয়মিত যত্ন আর কয়েকটি ঘরোয়া উপায় মেনে চললেই শীতে হাত থাকবে নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর।
শীতের সময়ে অনেকে মনে করেন রোদ কম, তাই সানস্ক্রিন লাগানোর দরকার নেই। কিন্তু এটাই বড় ভুল। শীতের রোদেও থাকে অতিবেগুনি রশ্মি, যা হাতের ত্বকে কালচে দাগ ও বয়সের ছাপ ফেলে দিতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে মুখের মতো হাতেও সানস্ক্রিন লাগানো জরুরি। বিশেষত যাঁরা দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকেন বা যাতায়াতে বাইরে সময় কাটান, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি আরও প্রয়োজনীয়।
এর সঙ্গে হাতের শুষ্কতা আটকাতে প্রয়োজন নিয়মিত ময়শ্চারাইজিং। অনেকেই মুখে ক্রিম লাগান, কিন্তু হাতের কথা ভুলে যান। দিনে কয়েকবার ময়শ্চারাইজার লাগালে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। রাতে শোয়ার আগে একটু ঘন ধরনের ময়শ্চারাইজার হাতজোড়া ভাল করে ম্যাসাজ করে নিলে সকালের হাত থাকবে অনেকটাই নরম ও আরামদায়ক।
হাত অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে ঘরোয়া প্যাকই পারে দ্রুত উপকার দিতে। কয়েক ফোঁটা মধু আর অলিভ অয়েল মিশিয়ে হালকা ম্যাসাজ করলে ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা পৌঁছায়। মধুর প্রাকৃতিক হিউমেকট্যান্ট গুণ আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, আর অলিভ অয়েল ত্বককে করে তোলে মসৃণ। পনেরো মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে নিলেই হাতের ত্বক পাবে কোমলতা। কয়েক দিন ব্যবহারেই ফারাক চোখে পড়বে।
হাতে দাগছোপ থাকলে বানিয়ে নিতে পারেন শসার টোনার। শসার রসের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা কর্পূর মিশিয়ে দিনে দু’বার লাগালে ত্বক থাকবে সতেজ, দাগও হালকা হবে। শসার শীতল ভাব ত্বককে শান্ত রাখে এবং কর্পূর ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
শীতের সময়ে বারবার হাত ধোয়া, ডিটারজেন্ট বা সাবান ব্যবহারেও ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই হাত ধোয়ার পরে ময়শ্চারাইজার লাগানো অভ্যাস করে ফেলুন। বাইরে বেরোলে সঙ্গে একটি ছোট হাতের ক্রিম রাখলে সুবিধা মিলবে।
একটু যত্ন, সামান্য সচেতনতা এতেই শীতকালের হাতের রুক্ষতা থাকবে দূরে। ব্যথা, ফাটা ত্বক বা অস্বস্তি নয়, শীতেও হাত থাকবে নরম, মসৃণ আর সুন্দর।
