
কোচবিহারের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী বিএসএফের কার্যকলাপ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবিকে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ সামনে আসার পরই তাঁর ক্ষোভ আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের নাকের ডগা দিয়ে বাংলার নাগরিকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে বিএসএফ। এটা কীভাবে হচ্ছে? রাজ্য পুলিশ কি দেখছে না?”
মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় জানান, রাজ্যের অফিসারদের ‘ভীতু’ হয়ে থাকলে চলবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “মারপিট করতে বলছি না, খুন-খারাপি করতে বলছি না। তবে প্রো-অ্যাক্টিভ হোন। বর্ডার এলাকায় নাকা চেকিং ঠিকমতো করুন।” তাঁর অভিযোগ, বাংলায় কথা বললেই অনেককে বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যা মেনে নেওয়া যায় না।
সোনালি বিবির ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে জোর করে পুশব্যাক করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে বিএসএফ তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “সাধারণ মানুষ আর ক্রিমিনাল এক নয়। কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে প্রমাণ থাকতে হবে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, অন্য কোনো রাজ্যের পুলিশ বাংলায় ঢুকে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া। একই সঙ্গে আসাম সরকারের চিঠি পাঠানোর বিষয়ে তিনি কড়া আপত্তি জানান।
কোচবিহারের বৃহৎ রাজবংশী, কামতাপুরী ও সংখ্যালঘু জনসংখ্যাকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি থাকতে ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না। মানুষকে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে দিতে হবে।”
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় ক্রমাগত পুশব্যাক, গ্রেফতার ও পুলিশ–বিএসএফ সমন্বয়ের অভাব নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী এদিন রাজ্য পুলিশকে কড়া বার্তা দিলেন।
