
গুজরাটের অক্ষরধাম পরিণত হয়েছিল এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক কেন্দ্রস্থলে। ‘প্রমুখ বার্নি অমৃত মহোৎসব’-এর উদ্যাপনে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় ৫০ হাজার ভক্ত। ভক্তি, সেবা ও মানবতার বার্তা বহন করা এই উৎসবে হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল সহ একাধিক বিশিষ্ট অতিথি।
অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রমুখ স্বামী মহারাজ ভক্তি এবং মানবসেবাকে একসূত্রে বেঁধে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সনাতন ধর্ম নানা চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়ালে প্রমুখ স্বামী পথ প্রদর্শকের ভূমিকা নিয়েছেন। শাহ জানান, মহারাজের নিঃস্বার্থ সেবা তাঁকে বহুবার ব্যক্তিগতভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রমুখ স্বামী মহারাজের সেবামূলক জীবনের প্রদর্শনী। তুলে ধরা হয় তাঁর আট দশকেরও বেশি সেবাযাত্রা যেখানে জাতি, ধর্ম বা পরিচয়ের কোনও বিভাজন ছিল না। BAPS-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৭৫ বছর পূর্ণ করার এই স্মরণীয় মুহূর্তকে কেন্দ্র করে তাঁর নিরহংকার জীবন, আত্মত্যাগ আর মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় নানা দৃশ্যপটের মাধ্যমে। জানা যায়, ১৯৫০ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও মহারাজ নিজের হাতে বাসন মাজতেন সেবাকে তিনি কর্তব্য নয়, ভক্তি বলে মানতেন।
মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল বলেন, প্রমুখ স্বামী মহারাজ, মহন্ত স্বামী মহারাজ এবং স্বামীনারায়ণের উপস্থিতি গুজরাটের মাটিকে পুণ্য করেছে। মহন্ত স্বামী স্মৃতিচারণ করে জানান, একসময় নিজে না খেয়ে তাঁকে খাইয়েছিলেন প্রমুখ স্বামী অন্যের সুখেই নিজের আনন্দ খুঁজে পাওয়ার অনন্য উদাহরণ।
সবরমতী নদীর ধারে একসঙ্গে ৫০ হাজার ভক্তের আরতি, অটল ব্রিজে বাজির ঝলকানি এবং তিন মাসের প্রস্তুতিতে ৭ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের অক্লান্ত পরিশ্রম সব মিলিয়ে উৎসবটি হয়ে উঠেছিল এক মহাসমারোহ। বিদেশ থেকেও বহু ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের পুরো আয়োজন লাইভ দেখা যায় আস্থা চ্যানেল ও live.baps.org-এ।
অক্ষরধামে এই মহোৎসব শুধু এক আধ্যাত্মিক স্মরণসভাই নয়, প্রমুখ স্বামী মহারাজের জীবনের মানবধর্মের মহিমাকেও উজ্জ্বল করে তুলল।
