
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)–এর প্রথম পর্ব শেষ হতে না হতেই দ্বিতীয় পর্বের জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল। আগামী সপ্তাহে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপের শুনানি ও সংশোধনের কাজ। এই দফায় তিনটি দিককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে শাসকদল।
প্রথমত, পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোটার তালিকায় নাম নিশ্চিত করতে তাদের সরাসরি শুনানিতে হাজির করানোই লক্ষ্য তৃণমূলের। অনেক শ্রমিক পরিবারের তরফে ফর্ম জমা পড়লেও উপস্থিত না থাকায় নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বুথ-পঞ্চায়েত স্তরে সংগঠনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, নথিহীন ভোটারদের নাম তোলার বিষয়টি এবার বড় চ্যালেঞ্জ। যাদের কাছে পুরনো ভোটার তালিকায় আত্মীয়ের নাম নেই, আবার কমিশন নির্ধারিত নথিও নেই এই শ্রেণির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে দল। ১২ ডিসেম্বর থেকে ব্লকভিত্তিক ‘মে আই হেল্প ইউ’ শিবিরে নথি তৈরির সহায়তা দেবে প্রশাসন। নথিহীনদের বুথ স্তর থেকেই শিবিরে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিচ্ছে স্থানীয় সংগঠন।
তৃতীয়ত, সদ্য বিবাহিত মহিলাদের নাম তোলায় গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল। অন্য জেলা বা রাজ্য থেকে আসা দম্পতিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে অগ্রাধিকারে, যদিও সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
তৃণমূলের নিচুতলার অস্থায়ী কর্মীদের দ্বিতীয় পর্বেও সংগঠিত ভাবে কাজে লাগানো হবে। প্রথম পর্বে যেমন তাঁদের সক্রিয়তা ছিল, এবার প্রশাসনিক স্তরের কাজেও সমান্তরাল নজরদারি চালাবে দল। নতুন ভোটারদের নাম যুক্ত হওয়া, ভুয়ো নাম ঢোকার সম্ভাবনা, মৃত ভোটারদের বাদ পড়া প্রতিটি বিষয়ে নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘দিদির দূত’ অ্যাপের মাধ্যমে কমিশনের সমান্তরাল হিসাবও রাখছে শাসকদল। তৃণমূলের বক্তব্য, প্রথম দফায় কিছু ক্ষত থাকলেও দ্বিতীয় পর্বেই তা মেরামতির সুযোগ রয়েছে।
