
তিলোত্তমায় ফুটবল উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। লেক টাউনের ক্লক টাওয়ার এলাকা যেন উৎসবের আলোয় মোড়া। আগেই মারাদোনার মূর্তি ছিল সেখানে, এবার সেই তালিকায় যোগ হল লিওনেল মেসি। শিল্পী মন্টি পালের গড়া কাঠের বিশাল মূর্তিটি মঙ্গলবার রাতে ক্রেনের সাহায্যে মঞ্চে বসানো হয়েছে। উচ্চতায় 70 ফুট ছুঁইছুঁই এই মূর্তি এখন শহরের নতুন আকর্ষণ। 43 জন শিল্পীর কয়েক মাসের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে মেসির এই অসাধারণ অবয়ব। মূর্তির মুখ এখনও ঢাকা থাকলেও শুক্রবারের অপেক্ষায় শহরজুড়ে উত্তেজনা সঞ্চারিত হচ্ছে।
মেসির কলকাতায় আসা যেন উৎসবের মতোই। শুক্রবার রাত 1টার পরই তিনি পৌঁছবেন নেটাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এরপর স্টেডিয়াম সংলগ্ন তারকা হোটেলে রাত্রি যাপন করবেন। শনিবার সকাল থেকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন সেজে উঠবে নাচে-গানে, আলো-রঙে। সেখানে মেসিকে রাজকীয় অভ্যর্থনা দেওয়া হবে। আয়োজনে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে শাহরুখ খান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও লিয়েন্ডার পেজের মতো তারকার।
স্টেডিয়ামে থাকবে ‘মাস্টার ক্লাস উইথ মেসি’, যেখানে খুদে ফুটবলারদের সঙ্গে দেখা করবেন মেসি। সঙ্গে থাকবেন লুইস সুয়ারেজ ও রডরিগো ডে পল। এরপর মোহনবাগান অল স্টার ও ডায়মন্ড হারবার অল স্টার ম্যাচে দুই দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ।
তবে লেকটাউনে সরাসরি গিয়ে নিজের মূর্তি উদ্বোধন করার পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে নিরাপত্তাজনিত কারণে। পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় হোটেল থেকেই ভার্চুয়ালি উন্মোচন করবেন তিনি। দুপুরের দিকে হায়দরাবাদের উদ্দেশে যাত্রা করবেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
এদিকে শহরের অন্য প্রান্তে সল্টলেকের ঐকতান সেজে উঠেছে মেসির সংগ্রহে থাকা নানান ট্রফির প্রদর্শনীতে। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ক্লাব ট্রফি সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি যেন এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
কলকাতা আজ সত্যিই ফুটবলের রাজধানী, আর তিলোত্তমার প্রতিটি কোণে এখন শুধুই মেসি-জ্বর।
