
রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন পর্ব এসআইআর (স্পেশ্যাল সামারি রিভিশন) প্রক্রিয়া চলছে জোরকদমে। আর ঠিক সেই সময়েই ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিনে এলো নতুন বিতর্ক। বৃহস্পতিবার সকালেই নির্বাচন কমিশনের দেওয়া অ্যাপে হঠাৎ দেখা গেল একটি নতুন অপশন, যা মুহূর্তেই বাড়িয়ে দিল কাজের চাপ। অভিযোগ তুলেছেন বিভিন্ন এলাকার বিএলওরা (বুথ লেভেল অফিসার)। তাঁদের বক্তব্য, বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে কোনও আগাম নির্দেশ বা গাইডলাইন ছাড়াই নতুন অপশন সংযোজন সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে চাপ বাড়ানো।
বিএলওদের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে তাঁরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ফর্ম সংগ্রহ থেকে শুরু করে অ্যাপে আপলোড সবটাই সময়সীমার ভেতর করতে হিমশিম খেয়েছেন। তার ওপর শেষ দিনে হঠাৎ অ্যাপ আপডেট হওয়ায় কয়েকটি কাজ আবার নতুন করে করতে হচ্ছে। ফলে বাড়ছে ভুলের আশঙ্কাও। বহু জায়গায় অ্যাপ স্লো হয়ে যাওয়ার অভিযোগও এসেছে। বিএলও রক্ষা কমিটির সদস্যদের বক্তব্য, “যে সময়ে কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নতুন দায়িত্ব চাপানো হচ্ছে। এতে কাজের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
এদিকে, আজ লোকভবনে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বসু কিছু নির্বাচনী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করলেও আন্দোলনরত বিএলও রক্ষা কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেননি। এই বিষয়টি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএলওরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা অতিরিক্ত কাজের চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ চাইছেন, কিন্তু সেই আবেদন আজও অগ্রাহ্য রইল।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের দফতরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সূত্রের মতে, বৈঠকে মূলত ভোটার তালিকায় কতজন নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, বাতিলের হার কত, এবং এসআইআর-এর কাজ কতদূর এগিয়েছে এসব বিষয়ই বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হয়।
শেষ দিনের চাপে যখন বিএলওরা কার্যত দিশেহারা, তখন নতুন অ্যাপ আপডেট আরও জটিলতা বাড়িয়েছে বলেই অভিযোগ উঠছে সব মহল থেকে।
