
সন্দেশখালি ইস্যুতে ফের চাপে শেখ শাজাহান। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআই যে অনুসন্ধান রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তাতে উঠে এসেছে প্রায় ৩,০০০টি জমি দখলের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ শাজাহান ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা জোর করে চাষের জমি দখল করে সেখানে নোনা জল ঢুকিয়ে ভেড়ি তৈরি করেছেন, বহু কৃষক ও জমির মালিককে ভয় দেখিয়ে জমি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে সিবিআই এলাকা ঘুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযোগ নেয়, তার বেশিরভাগই পরবর্তীতে প্রমাণ সহকারে রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে, আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে প্রধান সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষের গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়ে নতুন করে তুঙ্গে বিতর্ক। অভিযোগ, জেলেই বসে শাজাহান এই ‘হত্যার ছক’ করেছিলেন। যদিও বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন, কিন্তু ঘটনাটির পরই সিবিআইয়ের রিপোর্ট জমা পড়ায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গিয়েছে।
সিবিআই সূত্রের দাবি, জমা পড়া অভিযোগগুলির মধ্যে বিপুল সংখ্যক মামলাই ‘যথাযথ প্রমাণসহ’। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শাজাহানের ভাইয়ের নেতৃত্বে একটি সংগঠিত দল এলাকায় জমি দখলের কাজ করত এমন তথ্যও অনুসন্ধানে মিলেছে। যদি আদালতে এই রিপোর্টের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে শাজাহানের জামিন পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে রেশন দুর্নীতির তদন্তে গিয়ে ইডি যে হামলার মুখে পড়েছিল, সেখান থেকেই শুরু হয় শাজাহান বিতর্কের বিস্তার। এরপর একের পর এক অভিযোগ, রাজনৈতিক সংঘাত, তদন্ত সব মিলিয়ে শাজাহানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুলেছিল সন্দেশখালি।
নতুন রিপোর্ট জমা পড়ার পর শাজাহানের ভবিষ্যৎ আরও জটিল হয়ে গেল বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহলের একাংশ। আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণেই স্পষ্ট হবে, এই অভিযোগের বোঝা তাঁকে কতটা বিপদে ফেলতে চলেছে।
