
বলিউডে নীরব অথচ শক্তিশালী এক উপস্থিতির নাম অক্ষয় খান্না। তারকা পরিবারের সন্তান হলেও তিনি কখনও আলো-বাল্বের দৌড়ঝাঁপ বা স্বজনপোষণের আরামে চলতে চাননি। বরং ভিন্ন পথের এক নিভৃতচারী পর্দার সামনে যতটা উজ্জ্বল, ব্যক্তিজীবনে ততটাই নিসঙ্গ, শান্ত এবং নিজস্ব ছন্দে চলা এক অভিনেতা।
১৯৭৫ সালে জন্ম নেওয়া বিনোদ খান্নার পুত্র অক্ষয় ১৯৯৭ সালে হিমালয় পুত্র দিয়ে বলিউডে পা রাখেন। তবে ক্যারিয়ারের প্রকৃত উত্থান ১৯৯৭ সালের যুদ্ধভিত্তিক সিনেমা বর্ডার দিয়ে। এরপর তাল, দিল চাহতা হ্যায়, হামরাজ প্রতিটি সিনেমায় তিনি প্রমাণ করেছেন যে অভিনয়ই তাঁর শক্তি, জনপ্রিয়তার দৌড় নয়। ২০১০–এর পর সাময়িক বিরতি এলেও মম, ইত্তেফাক, সেকশন ৩৭৫ বা দৃশ্যম ২ যেখানেই তিনি ফিরেছেন, সেখানেই নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
২০২৫ সাল যেন অক্ষয়ের জন্য বিশেষ এক বছর। বছরের শুরুতে ছাবা–তে আওরঙ্গজেব চরিত্রে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের তাক লাগায়। আর সদ্য মুক্তি পাওয়া আদিত্য ধরের ধুরন্ধর–এ তিনি রেহমান ডাকাতের ভূমিকায় আবারও দেখিয়েছেন তাঁর অদম্য দক্ষতা। সমালোচক অনুপমা চোপড়ার ভাষায়, ‘শুধু চোখের অভিনয়েই তিনি বাকিদের ছাপিয়ে গেছেন।’
অক্ষয়ের ব্যক্তিজীবনও কম আলোচনার বিষয় নয়। ৫০ বছর বয়সেও তিনি অবিবাহিত, নেই প্রেমকাহিনি বা বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা, সাক্ষাৎকার এড়িয়ে চলা সব মিলিয়ে তিনি বলিউডের ভিন্ন স্রোত। এক সাক্ষাৎকারে তিনি খোলাসা করে বলেছিলেন, সংসারের বাড়তি দায়দায়িত্ব তাঁর পছন্দ নয়। স্বাধীন, দায়িত্বহীন, একাকী জীবনই তাঁকে সবচেয়ে বেশি সুখী করে।
নায়ক, খলনায়ক কিংবা চরিত্রাভিনেতা যে ভূমিকাই হোক, অক্ষয় খান্না সবসময়ই নিজের স্বকীয়তা দিয়ে দর্শককে চমকে দেন। নীরবতাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি, আর সেই শক্তিতেই আজও তিনি বলিউডে প্রাসঙ্গিক ও অনন্য।
