
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে ভারত বুধবার জানায়, তালিবানের সঙ্গে “বাস্তবসম্মত ও কার্যকর যোগাযোগ” ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি স্থিতি সম্ভব নয়। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পর্বতনেনি হরিশ বলেন, কেবল নিষেধাজ্ঞা বা দমনমূলক নীতি প্রয়োগে পরিস্থিতির উন্নতি হয় না; বরং ইতিবাচক পদক্ষেপকে উৎসাহিত করার মতো নীতি গ্রহণ জরুরি। তাঁর কথায়, “শুধুই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে গত সাড়ে চার বছরের মতোই ‘ব্যবসা যেমন চলছিল তেমনই’ অবস্থা বজায় থাকবে।”
হরিশ জানান, আফগান জনগণের উন্নয়ন চাহিদা পূরণে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ এবং কাবুলে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি–সহ সব ক্ষেত্রেই ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নারী, শিশু ও ক্রীড়াবিদদের মৃত্যু নিয়েও তীব্র নিন্দা করে ভারত। হরিশ বলেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও WTO–র নিয়মের পরিপন্থী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সীমান্ত বন্ধ রেখে আফগানিস্তানের ওপর যে “বাণিজ্য ও পরিবহন সন্ত্রাস” চাপানো হচ্ছে, তা একটি স্থলবেষ্টিত দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর অসহনীয় চাপ তৈরি করছে। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদেরও লঙ্ঘন।
ভারত জানায়, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে তার অবস্থান অপরিবর্তিত। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত অক্টোবরেই তালিবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুতাক্কি দিল্লি সফর করেন ২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর এই প্রথম কোনও শীর্ষ নেতা ভারতে আসেন। সেই সফরে দিল্লির প্রযুক্তিগত মিশনকে দূতাবাসে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তালিবান ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক উত্তেজনা, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও সীমান্ত সংঘর্ষের মধ্যে ভারতের বার্তা স্পষ্ট সমাধান শক্তির প্রয়োগে নয়, বরং ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগে।
