
আরপোরার ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নাইটক্লাবে আগুনে ২৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত গৌরব ও সৌরভ লুথরা থাইল্যান্ডে আটকা পড়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তাঁদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। গোয়া সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে দুই অভিযুক্তের পাসপোর্ট বাতিলের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বিদেশ মন্ত্রক।
তদন্তে উঠে এসেছে, ৬ ডিসেম্বর মাঝরাতে আগুন লাগার পর যখন দমকলকর্মীরা আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই সময়ই ৭ ডিসেম্বর রাত ১টা ১৭ মিনিটে মেকমাইট্রিপের মাধ্যমে থাইল্যান্ডগামী টিকিট কেটে ফেলেন লুথরা ভাই। সিবিআইয়ের অনুরোধে তাঁদের নামে ইন্টারপোল ব্লু কর্নার নোটিস জারি করা হয়েছে।
বুধবার দিল্লির একটি আদালত তাঁদের গ্রেফতারি রোধের আবেদন নাকচ করে। আইনজীবীদের দাবি ছিল, দুই ভাই ক্লাবের মালিক নন, বরং লাইসেন্সি; দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল কর্মীদের ওপর। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। ঘটনায় পাঁচ কর্মী ও ম্যানেজারকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে গোয়া পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আগুন লাগার পর পর্যাপ্ত বহির্গমন পথের অভাব, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ত্রুটি এবং অতিরিক্ত ভিড়ই বিপর্যয়ের মাত্রা বাড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ন্ত জানিয়েছেন, আট দিনের মধ্যেই তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়বে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ পৌঁছতে শুরু করেছে এবং রাজ্যের সব বিনোদনকেন্দ্রে নিরাপত্তা অডিট জোরদার করা হয়েছে।
থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে লুথরা ভাইদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি গোয়ার নাইটলাইফ সেক্টরের নিরাপত্তা ও নজরদারিকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
