
কেরলের রাজধানী তিরুবনন্তপুরমে ইতিহাস বদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। পুর নিগম নির্বাচনের ফলাফলে টানা ৪৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সিপিএম ও বাম জোট এলডিএফ বড় ধাক্কার মুখে। ১০১ ওয়ার্ডের তিরুবনন্তপুরম পুর নিগমে বোর্ড গড়তে প্রয়োজন ৫১টি আসন। সর্বশেষ প্রবণতা অনুযায়ী, বিজেপি ইতিমধ্যেই ৪৫টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং বাকি একাধিক ওয়ার্ডে তারা এলডিএফের থেকে এগিয়ে রয়েছে। ফলে বাম দুর্গে বিজেপির ঐতিহাসিক দখল এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শুধু তিরুবনন্তপুরম নয়, গোটা কেরলেই ক্ষমতাসীন বাম শিবিরের জন্য ছবি খুব একটা স্বস্তির নয়। রাজ্যের অন্যান্য পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। পঞ্চায়েত স্তরে ইউডিএফ ৪০০-র বেশি আসনে এগিয়ে, যেখানে এলডিএফ পিছিয়ে পড়েছে। জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতিতেও দুই প্রধান জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও বামেদের আধিপত্য স্পষ্টভাবে প্রশ্নের মুখে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ফলাফল আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাম শিবিরের জন্য বড় সতর্ক সংকেত। অতীতে যেমন ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে ধাক্কা খেয়ে বাংলায় ২০১১ সালে ক্ষমতা হারিয়েছিল সিপিএম, কেরলেও কি তেমনই পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত মিলছে সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। টানা এক দশক ধরে কেরলে সরকার চালাচ্ছে বামেরা, কিন্তু পুর ও পঞ্চায়েত ভোটের এই ফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, তিরুবনন্তপুরমের পুরভোট শুধু একটি শহরের ফল নয়, কেরলের রাজনীতিতে সম্ভাব্য বড় মোড়ের পূর্বাভাস হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
